ফুটবল নিয়ে দ্বন্দ্ব সংঘাত কাম্য নয়

আফসানা ইতি

বাংলাদেশের ক্রিয়াপ্রেমীদের একটি বড় অংশ ফুটবলপ্রেমী। ফুটবল খেলা দেখেন না এমন মানুষের সংখ্যা কমই, হোক সেটি ফিফা বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ইউরো কাপ, মারদেকা ট্রফি কিংবা বিভিন্ন ক্লাবের খেলা। ফুটবলের বড় আসরগুলোতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকগোষ্ঠী দিয়ে পরিপূর্ণ বাংলাদেশ। অন্যান্য দলের কিছু সমর্থক রয়েছে সেটির সংখ্যা নেহাত এ দুটি দলের তুলনায় কম। ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা এই নিয়ে সরব এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসায় সিক্ত হাজার হাজার মাইল দূরের এই দেশ দুটি। সিজন যখন ফুটবলের তখন পাড়া-মহল্ল­ায়, অলিতে-গলিতে, গ্রামে-গঞ্জে, চা-দোকান কিংবা কারখানায় আপনি জার্সি পরিহিত মেসি নেইমারদের দেখতে পাবেন। সময় বদলেছে। পালটেছে মানুষের অভিরুচি। আজকার দিনে মানুষ খেলাকে শুধু খেলা বা বিনোদন হিসেবে দেখে না। খেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের বাজি ও জুয়ার আসর। যার পরিপ্রেক্ষিতে নিঃস্ব হচ্ছে কিছু পরিবার ও গোষ্ঠী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সহজলভ্য ব্যবহারে এর প্রচার-প্রসার ও জুয়াড়িদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বাড়ছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহ। আরো দুঃখজনক বিষয় হলো এসব দলের সমর্থকদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, গত কয়েক দিনের পত্রিকার শিরোনামগুলো ছিল আঁতকে ওঠার মতো। ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ’, ‘ব্রাজিল সমর্থক চাচাকে পিটিয়েছে ভাস্তে’-এমন অনেক ঘটনা ভেসে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যতখানি না এসব খেলা আমাদের বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে তার চেয়ে বেশি বোধহয় আমাদের ক্ষতিসাধন করছে। ‘পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট’—আদতে ভাগ্য যখন সহায় নয়। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। অন্ধ ভক্ত মানে এই নয় যে নিজের জীবন বিপন্ন করতে হবে। বাইবেলে আছে, অন্ধ যদি পথ দেখায় অন্ধকে তাহলে দুই জন-ই গিয়ে গর্তে পড়ে। মূলকথা কেউ কারো উপকারে আসে না বরং দুই জনের অপকারই হয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উগ্র সমর্থকদের কিছুটা একই অবস্থা। এ যেন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। এহেন উগ্র পরিস্থিতি থেকে শিগিগরই বেরিয়ে আসতে হবে। নয়তো ঘুণে ধরা এই প্রজন্ম ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়