আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম

আবু সালেহ মোহাম্মদ সায়েম

দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প—এই তিন প্রকল্পের আওতায় সরকার সারা দেশে হতদরিদ্রদের গৃহনির্মাণ করার মহান উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং তার বাস্তবায়ন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮০ ভূমিহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে সরকার। স্বাভাবিকভাবেই আশা করা যায়, যারা প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র পরিবার, তারাই এ সুবিধা ভোগ করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো—বাস্তবে সারা দেশে এসব ঘর নির্মাণব্যয়, নির্মাণসামগ্রী এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর বণ্টন নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে এসব ঘর কেবল সমাজের হতদরিদ্রদেরই পাওয়ার কথা, সেখানে দেশের কোনো কোনো স্থানে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, তাদের আত্মীয়স্বজন এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বরাদ্দ নিয়েছেন। কোথাও কোথাও জনপ্রতিনিধিরা চড়া মূল্যে বিক্রিও করেছেন। এর ফলে গৃহহীন দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে চলেছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার দেশের ভূমিহীন দরিদ্র মানুষের বাসস্থানের চাহিদা পূরণ করে তাদের জীবনধারা স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার চেষ্টা করে থাকে। উদ্দেশ্যটি যে মহত্, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নাম ভাঙিয়ে সরকারের টাকায় দুর্বৃত্তদের ভাগ বসানো এবং প্রকল্পের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বর্তমানে করোনা মহামারিতে দরিদ্র মানুষ নানামুখী জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রকৃত অসচ্ছল ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মানসম্মত ঘরপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য প্রশাসন ও রাজনীতির মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, সুনীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করার দিকেও সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ দিতে হবে।

ঢাকা­