আফগানিস্তানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এলাকা এখন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তালেবানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও ইরানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্ত ক্রসিংসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্যতম একটি জেলার দখল নিয়েছে তালেবান। বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকাসহ আফগানিস্তানের ৩৯৮টি জেলার মধ্যে ২৫০টিই দখলে আনতে সক্ষম হয়েছে তালেবানগোষ্ঠী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার ৯ জুলাই রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেছে তালেবান প্রতিনিধিরা। তাদের এই দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়া। এদিন আলোচনায় আফগান সরকার ও তালেবান, উভয় পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহবান জানিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, রাশিয়া নেতৃত্বাধীন সিএসটিও সামরিক জোট সীমান্তে আগ্রাসন ও উস্কানি প্রতিরোধে দৃঢ়ভাবে কাজ করবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বর্তমানে তালেবানের দখলে এবং প্রতিদিনই তারা নতুন নতুন জেলা সরকারি বাহিনীর হাত থেকে ছনিয়ে নিচ্ছে। বাদাখশানে তালেবান যোদ্ধারা দ্রুত ওই এলাকার প্রধান শহর ফায়জাবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাজিকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান ঘাঁটিগুলো থেকে সৈন্য পালানোর ঘটনা ঘটছে। সবশেষ গত রবিবার তালেবানের আক্রমণের মুখে প্রায় হাজারখানেক আফগান সৈন্য তাজিকিস্তানে পালিয়ে যায়। তবে এসব সৈন্যকে ফিরিয়ে এনে ফের তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে আফগান সরকার।
দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামদুল্লাহ মহিব গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থানত্যাগী ২ হাজার ৩০০ সৈন্যকে ফের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের তথ্যমতে, বাদাশখান প্রদেশের ২৮টি জেলার মধ্যে ২৬টি দখল করে নিয়েছে তালেবান। এর মধ্যে তিনটি পেয়েছে একপ্রকার বিনা যুদ্ধেই। তালেবানের হামলার মুখে আরেক প্রতিবেশী দেশ উজবেকিস্তানেও বেশ কিছু আফগান সৈন্যের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানা গেছে।
সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণার পর থেকেই সেখানে তালেবানের হামলা বেড়ে গেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সব সেনা বিদায় নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সব বিদেশি সেনা আফগানিস্তান না ছাড়লে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াই আরও তীব্র হলে আশপাশের দেশ অভিমুখে ফের আফগান শরণার্থীর ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএইচপি