মেহেরপুর প্রতিনিধি
জনবল সংকটে চিকিত্সাসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা। এদিকে জানা যায়, জেনারেল হাসপাতালে সাত জন চিকিত্সক করোনা ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন। সাত জনের মধ্যে একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। এখন এই ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন ছয় জন চিকিত্সক। হাসপাতালের আরএমও মোখলেসুর রহমান বুধবার জানান, বর্তমানে যারা পজিটিভ হয়ে রেড জোনে চিকিত্সাধীন রয়েছেন তাদের মধ্যে চার জনের অবস্থা গুরুতর। বর্তমানে যে ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমিত হচ্ছে এটা খুব বিপজ্জনক। তিনি আরো জানান, সাত জন চিকিত্সক করোনা ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের মধ্যে একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। ফলে ছয় জনকে দিয়ে করোনা ওয়ার্ড চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ বেডের বিপরীতে চিকিত্সক দরকার ৪২ জন, সেখানে রয়েছেন ২৪ জন। চতুর্থ শ্রেণির জনবল ৪৩ জনের বিপরীতে রয়েছেন ১৬ জন।
চিকিত্সা নিতে আসা মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ার রূপালী খাতুনের ভাতিজা শাহেদ আলী গত বুধবার বলেন, রূপালী খাতুন ১০ দিন আগে করোনা পজিটিভ হন। পজিটিভ হওয়ার ছয় দিন পর্যন্ত বাড়িতেই আইসোলেশনে থেকে চিকিত্সা নিচ্ছিলেন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ভর্তি হন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে। থেমে থেমে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে। হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে অক্সিজেন দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। রূপালী খাতুনের মতো করোনা ওয়ার্ডের রেড জোনে ঐদিন দুপুর পর্যন্ত চিকিত্সাধীন ছিলেন ৫৪ জন। উপসর্গ নিয়ে হলুদ জোনে চিকিত্সাধীন রয়েছেন ৫১ জন। চার দিন হলুদ জোনে চিকিত্সা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর গ্রামের এমদাদুল হক।
বুধবার দুপুরে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড, রন্ধনশালা, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র নার্স রিপনা খাতুন জানান, অন্যদিনের তুলনায় বুধবারের চিত্র মোটামুটি ভালো। গত ৩০ জুন থেকে এদিন পর্যন্ত করোনা পজিটিভ হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১২২ জন। মারা গেছেন ৯ জন। চার জন গুরতর অবস্থায় রয়েছেন।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, খুব ভয়ানক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এ এক কঠিন যুদ্ধ। এ যুদ্ধে সবার সহযোগিতা চাই। মেহেরপুরে বর্তমানে অ্যান্টিজেন টেস্ট ও জিন এক্সপার্ট রিপোর্ট হচ্ছে। আরটি-পিসিআর ল্যাব না থাকায় কুষ্টিয়ায় নমুনা জট লেগে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে মেহেরপুরেও আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।