মিরাজ-সাকিবের ঘূর্ণিতে নাকাল জিম্বাবুয়ে

স্পোর্টস রিপোর্টার

হারারে টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে ছিল চার স্বীকৃত বোলার। যার মধ্যে দুই জন পেসার, দুই জন স্পিনার। স্পিন আক্রমণে বাঁহাতি সাকিব আল হাসান ও অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ওপরই আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। দুই স্পিনার হতাশ করেননি। বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও দলের চাহিদা পূরণ করেছেন তারা। স্পিনারদ্বয় নিয়েছেন ৯ উইকেট। মিরাজ ৮২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট, সমান রান খরচ করে সাকিব নিয়েছেন ৪ উইকেট।

তাদের ঘূর্ণিতেই গতকাল প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে ২৭৬ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা ব্যাট করেছে ১১১.৫ ওভার, ধীর গতিতে ব্যাট করায় তাদের রান রেট ছিল ২.৪৬। প্রথম ইনিংসে ১৯২ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের শম্বুক গতির ব্যাটিং ম্যাচের গতি-প্রকৃতি নিয়ে ভিন্ন আভাস দিচ্ছিল। প্রথম সেশনে একটি, দ্বিতীয় সেশনে কৃপণ বোলিংয়ে তিন উইকেট নিয়েছিল বাংলাদেশ। চা-বিরতির পর স্বাগতিকদের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। মিরাজ-সাকিবের ঘূর্ণিতে শেষ ১৬ রানে ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

গতকাল দিনের প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে ৯৫ রান দিয়ে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন মিরাজ। টেইলর-কাইতানোর ১১৫ রানের জুটি ভাঙে। দ্রুতলয়ে রান তোলা টেইলর ৯২ বলে ৮১ রান (১২ চার, ১ ছয়) করে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন।

দ্বিতীয় সেশনে ২৯ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তিন রানের ব্যবধানে সাকিবের জোড়া শিকার হন ডিয়ন মায়ার্স (২৭) ও মারুমা (০)। তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রয় কাইয়া (০)। একপ্রান্ত আগলে খেলে গোটা দিন বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেন ওপেনার কাইতানো। জমাট রক্ষণ নিয়ে ব্যাটিং করে গেছেন তিনি। টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন। চা-বিরতির পর তাকে আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মিরাজ। উইকেটকিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩১১ বলে ৮৭ রান করেন কাইতানো। অভিষেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে কোনো ওপেনারের এটি সর্বোচ্চ ইনিংস। তারপর টেলএন্ডার তিরিপানো (০), নাউচি (০) দ্রুত সাজঘরে পাঠান মিরাজ। মুজারাবানিকে (২) বোল্ড করে বিদেশের মাটিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বার পাঁচ উইকেট শিকার পূর্ণ করেন এ অফস্পিনার। হারারেতেই বিদেশে নিজের সেরা বোলিংটা করলেন মিরাজ। এর আগে সেরা ছিল ২০১৮ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯৩ রানে ৫ উইকেট।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের লেজটা গুটিয়ে দিয়েছেন সাকিব। তার চতুর্থ শিকার হন এনগারাবা (০)। তাসকিন ৪৬ রানে ১টি উইকেট নেন।