প্রতিপক্ষ দলের রক্ষণভাগের ঘুম কেড়ে নেওয়ার মতো দারুণ এক ক্ষমতা রয়েছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং ব্রাজিলের নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়রের। তাদের স্কিল, টেকনিক, গতি, ফুটবল বোধ এতটাই মজবুত যে, তাদের বিরুদ্ধে খেলতে নামা প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তিতে থাকতে পারেন না। এই মেসি-নেইমারের ফুটবল যাদুতে মুগ্ধ গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। বাদ যায়নি বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরাও। রবিবার ভোরে কোপার ফাইনালে এই দুই তারকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখতে মুখিয়ে দর্শকরা। কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়াগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর এই প্রথম দুই দেশ মুখোমুখি হচ্ছে। ১৪ বছর পর কোপার ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সুপার ক্লাসিকো; এ কারণে উত্তেজনাটাও একটু বেশি।
বাংলাদেশ হতে ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে ব্রাজিল। রিও ডি জেনেরিওর ঐতিহাসিক মারাকানায় কোপা আমেরিকার ফাইনালে ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই দল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মুখোমুখি হবে, আগামীকাল ভোর ৬টায়। নেইমার এবং মেসি উভয়ের সামনে কোপার ট্রফি জয়ের হাতছানি। আর্জেন্টিনা কোপায় টানা ৫ ম্যাচ জিতেছে এবং টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত। অন্যদিকে নেইমারের ব্রাজিল টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত।
সুপার ক্লাসিকোর লড়াইয়ের উত্তাপ সম্পর্কে বলতে গিয়ে নেইমার ভিডিও গেমসের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, ‘২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যখন জার্মানির বিপক্ষে ফাইনাল খেলেছিল আমি মেসিকে সমর্থন করেছিলাম। এখন বন্ধুর বিপক্ষে লড়াই করতে নেমে বন্ধুত্বটা ভুলে থাকা কঠিন। এটাও মনে রাখবেন যে, আপনি যদি বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও গেমস খেলেন, তাহলে কি তাকে ছেড়ে দেবেন? যে কোনোভাবেই হারাতে চাইবেন। ফাইনালে ঠিক সেটাই হবে।’
কোপা হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনায়। করোনার কারণে সেটি না হওয়ায় ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্রাজিলে এখন করোনার টিকার জন্য সাধারণ মানুষ আন্দোলন করছে। আর ঠিক তখন বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং চালাকালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবের্তো ফর্নান্দোজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডান হাত তুলে পাঁচ আঙ্গুল দেখিয়ে বলেন, ‘ব্রাজিল ৫-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারাবে।’
ব্রাজিল ৫ বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছে দুই বার। ইতিহাস বলছে ১৯১৪ সালে আর্জেন্টিনা ব্রাজিল প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল। এ পর্যন্ত ১১০ ম্যাচ খেলে ব্রাজিল জিতেছে ৪৬ ম্যাচ, আর্জেন্টিনার জয় ৩৯ ম্যাচে আর অমীমাংসিত থেকেছে ২৫ ম্যাচ। এসব ইতিহাস নিয়ে ফুটবল দুনিয়া সময় নষ্ট করে কি না, বলা কঠিন। তবে বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকরা ম্যাচে চোখ রাখার আগে অতীত নিয়ে ভাবতে রাজি না। এখন কী হচ্ছে সেটা নিয়েই কথা।
কোপায় এতো দিন দর্শক ছাড়া খেলা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে ম্যাচের উত্তেজনায় ১০ ভাগ দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। সঙ্গে খেলোয়াড়দের দুই জন করে আত্মীয়ও এই সুযোগ পেতে পারেন। কোপার দুই সেমিফাইনালে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় রাখা ছিল না। ফাইনালে ৯০ মিনিটের পর প্রয়োজনে ৩০ মিনিট খেলা হবে। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর প্রথমবার ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। মেসিরা ম্যারাডোনাকে স্মরণ করেই মাঠে নামবেন। রেকর্ড হতে পারে এই ম্যাচে, যদি মেসি দুই গোল করতে পারেন তাহলে পেলের রেকর্ড ভেঙে যাবে।