যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়নি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি মোকাবিলা নিয়ে সরকারের সমালোচনা ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগসহ গণমাধ্যমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং নারী ও কন্যা শিশুদের ওপর অব্যাহত সহিংসতা যুক্তরাজ্যের জন্য উদ্বেগের বড় বিষয়।
‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি :দ্য ২০২০ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা এখনো সীমিত। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলা ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর ব্যাপক অভিযোগ ছিল। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ভোটারদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার আরো ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের মার্চে সরকার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে বাসায় থেকে চিকিত্সা নেওয়া ও বিদেশে না যাওয়ার শর্তে তাকে মুক্তি দেয়। গত সেপ্টেম্বরে তার কারাদণ্ডাদেশ স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু ২০২০ সাল জুড়ে তিনি ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ ছিলেন।
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ক্রসফায়ার’, নির্যাতনসহ ২২৫টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দায়ী। গত বছরের আগস্টে পুলিশের হাতে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়টি জনগণের কাছে নজিরবিহীন গুরুত্ব পায়। এরপর বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা কমেছে। গত বছরে কমপক্ষে ৩১টি গুমের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। সুশাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।