শ্রীমঙ্গলে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ
অনুজকান্তি দাশ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অঙ্গজ পদ্ধতিতে চারা উত্পাদন করে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ড্রাগন চাষ। উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের ইজারাগাঁর গ্রামে বসতবাড়ির পাশে বিশাল পুকুরপাড়ের বিস্তৃত ভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই ড্রাগন বাগানটি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী মো. নজরুল ইসলাম ও তার ভাই খোয়াজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো আব্দুল হাইয়ের যৌথ উদ্যোগে এই উপজেলায় প্রথম বারের মতো শুরু করা হয় ড্রাগন চাষ। শ্রীমঙ্গলের মাটিতে ড্রাগন চাষের এমন সফলতার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার নীলুফার ইয়াছমিন মুনালিসা সুইটি।
মো. নজরুল ইসলাম ও তার ভাই মো. আব্দুল হাই জানান, চাকরির পাশাপাশি লকডাউনের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২০১৯ সালের জুন মাসে ড্রাগন চাষ শুরু করেন এই দুই সহোদর। বিশাল পুকুরপাড়ে সারিবদ্ধভাবে ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন তারা। প্রথমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে মাত্র ২৫ টাকা দরে কয়েক শ চারা ক্রয় করে তিন ফুট দূরত্বে রোপণ করা হয়। পরে গাছের অঙ্গজ পদ্ধতি ব্যবহার করে কাটিংকৃত কলম চারা তৈরি করে সরাসরি মাটিতে রোপণ করা হয়। বর্তমানে তাদের বাগানে ৪০০-র ওপরে ড্রাগন গাছ রয়েছে। মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে এদের প্রতিটি গাছে এখন ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে।
মো. নজরুল ইসলাম জানান, চারা রোপণের দেড় বছরের মাথায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে প্রথম ফল সংগ্রহ করেন তারা। চলতি বছরের এই সময়ে (জুলাই মাসে) দ্বিতীয় বারের মতো ফুল ও ফল এসেছে গাছে। এবার আশানুরূপ ফলন হওয়ায় উত্পাদনের বেশির ভাগ অংশই বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মো আব্দুল হাই জানান, চারা রোপণের আগে দেড় থেকে দুই ফুট স্কয়ার গর্ত করে প্রতিটি গর্তে মাটির সঙ্গে ২০ কেজি পচা গোবর, ২০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম এমওপি ও ৫০ গ্রাম জিংক সালফেট সার মিশিয়ে এক মাস পর তাতে চারা রোপণ করা হয়। এছাড়া নিয়মিত পানির সেচ ও পরিচর্যার পাশাপাশি ছয় মাস অন্তর অন্তর ১০০ গ্রাম করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। এতেই ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াছমিন মুনালিসা সুইটি বলেন, ‘বাংলাদেশে মূলত বারি ড্রাগন ও বাউ ড্রাগন ফলের কয়েকটি প্রজাতির চাষ হলেও শ্রীমঙ্গলে প্রথম বারের মতো ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। ড্রাগন ফলটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ও ব্যাপক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি সুস্বাদু ফল। প্রতিটি উপযুক্ত ড্রাগন ফলে পর্যাপ্ত পানি, শর্করা, প্রোটিন, কিলোক্যালরি, চর্বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ক্যারোটিন এবং ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ পাওয়া যায়। উপজেলার অন্য কৃষকদেরও ড্রাগন চাষে উত্সাহিত করা হচ্ছে।’