আমার কৈশোরে ফিল্মি জগতের দুজন স্বপ্নপুরুষ ছিলেন। এক জন অশোক কুমার, আরেক জন দিলীপ কুমার। অশোক কুমারকে আমি সামনাসামনি দেখিনি, কেবল ছবির পর্দায় দেখেছি। দিলীপ কুমারকে একদিনের জন্য হলেও সামনে দাঁড়িয়ে দেখেছি, করমর্দন করেছি। সেটা ১৯৭১ সাল। স্থান কলকাতা। অশোক কুমার আমার দেশের লোক। কিশোরগঞ্জে বাড়ি। দিলীপ কুমারের জন্ম পেশোয়ারে এক ফল ব্যবসায়ীর ঘরে। সেই যে কৈশোরে অশোক কুমারের ছবি দেখেছি নায়িকা লীলা চিটনিসের সঙ্গে, তা এই অশীতিপর বয়সেও আমার মনে জ্বলজ্বল করছে। অশোক কুমার নিজের কণ্ঠে গান গাইতেন। তার গাওয়া ‘কিসমত’ ছবির গান এখনো ভুলিনি। আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র, তখন এক দিনে তিন বার একটা ছবি দেখেছি। সেই ছবির নাম ‘দিদার’। অভিনয় করেছেন দিলীপ কুমার এবং তার নায়িকা ছিলেন নার্গিস। নার্গিসকেও আমি দেখেছি ১৯৭২ সালে মুম্বাইতে। সে কথা থাক। দিলীপ কুমারের কথায় আসি। পাকিস্তান হওয়ার পরেও মুম্বাইয়ের হিন্দি ছবি নিয়মিত ঢাকায় আসত। তখন ‘আন’, ‘আন্দাজ’, ‘মুঘল-এ-আজম’সহ দিলীপ কুমারের প্রতিটি ছবি আমি দেখেছি। কিছুদিনের মধ্যে তার জীবনকথাও জেনেছি। তার আসল নাম ইউসুফ খান। মুম্বাইতে চাকরি করতে এসে তখনকার প্রখ্যাত অভিনেত্রী দেবিকা রানীর চোখে পড়েন। তার অনুরোধে অভিনয়ে নামলেন। ইউসুফ খান থেকে তিনি হন দিলীপ কুমার।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ছিলাম কলকাতায়। এই সময় আনন্দবাজারের সহযোগী সম্পাদক গৌরকিশোর ঘোষের সঙ্গে আমার পরিচয়। তিনি রূপদর্শী নামে আনন্দবাজার পত্রিকায় একটা কলাম লিখতেন এবং তা ছিল জনপ্রিয়তায় অতুলনীয়। এই গৌরকিশোর ঘোষ আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো দেখতেন। আমার লেখার ব্যাপারে নানা উপদেশ দিতেন। আমিও তখন আনন্দবাজারে কলাম লিখি। আমার স্ত্রী যখন অসুস্থ অবস্থায় কলকাতার হাসপাতালে, তখন গৌরকিশোর ঘোষ তাকে দেখতে এসে তার ‘রূপদর্শীর নকশা’ বইটি তাকে উপহার দেন। গৌরদার বাসায়ও এ সময় আমার ছিল নিত্য যাতায়াত। ফিল্মি জগত্ নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। তবু সেই সময় অনেক নামকরা অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম। যেমন কানন দেবী, সুচিত্রা সেন, উত্তম কুমার, পাহাড়ি সান্যাল, উত্পল দত্ত, শোভা সেন এবং আরো অনেকের সঙ্গে। কলকাতায় রাজভবনে ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সদ্য কারামুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সংবর্ধনার জন্য যে আয়োজন হয়েছিল, সেখানে অনেক বড় বড় সংগীতশিল্পী এবং অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে পরিচয় সেখানেই। এই সময়ে বিখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা উত্পল দত্তের সঙ্গেও আমার ঘনিষ্ঠ পরিচয়। উত্পল দত্ত ও শোভা সেনের টালিগঞ্জের বাড়িতে প্রায়ই যেতাম। এখানেই একদিন চায়ের আসরে গৌরকিশোর ঘোষ জানালেন, ‘গাফ্ফার, আমার সাগিনা মাহাতো বইটি পড়েছ?’ বললাম, ‘গৌরদা, আপনার সব কয়টি উপন্যাস আমি পড়েছি।’ সবচাইতে ভালো লেগেছে ‘কলকাতা তলিয়ে যাচ্ছে’ উপন্যাসটি। আপনি সাংবাদিক হলেও বাংলা সাহিত্যে একজন অমর ঔপন্যাসিক হয়ে বেঁচে থাকবেন। (আজ যদি গৌরদা বেঁচে থাকতেন এবং ঢাকার বাসিন্দা হতেন, তাহলে তার হাত থেকে ‘ঢাকা তলিয়ে যাচ্ছে’ নামে হয়তো একটা অমর উপন্যাস বেরোত।) গৌরদা আমার কথা শুনে একটু হেসে বললেন, “আমার ‘সাগিনা মাহাতো’ গল্পটি নিয়ে সিনেমা হচ্ছে। অভিনয় করবেন দিলীপ কুমার।”
আমি গৌরদার হাত জড়িয়ে ধরেছিলাম। বলেছিলাম, জয়তু গৌরদা, যুগ যুগ জিও। তার হাত ছেড়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, এই ছবির নায়িকা হবেন কে? গৌরদা বললেন, সায়রা বানু। আমার খুশির আর সীমা ছিল না। এই সুন্দরী নায়িকাকেও আমি খুবই পছন্দ করতাম। দিলীপ কুমার ও সায়রা বানুর সমন্বয়ে এই ছবি কী হবে তা ভেবে আমার আর খুশির অন্ত ছিল না। নার্গিসের পরেই সায়রা বানু ছিলেন আমার কৈশোরকালের স্বপ্নের নায়িকা।
উত্পল দত্তের স্ত্রী শোভা সেন, আমার শোভাদি জানালেন, ‘সাগিনা মাহাতো’র স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনার জন্য দিলীপ কুমার কলকাতায় আসবেন এক দিনের জন্য। আমার বাসাতেই ছোটখাটো একটা জলসা হবে। তুমি আসতে পারো। সেদিন আমার চোখে ঘুম ছিল না। নিজাম প্যালেসে আমার রুমে এসেও রাতে ঘুম হয়নি। অপেক্ষা করেছি কখন শোভাদি তাদের বাড়িতে আমাকে ডেকে পাঠাবেন। অবশেষে সেই দিনটি এলো। এক বিকেলে উত্পল দত্তের টালিগঞ্জের বাসায় ফিল্মি জগতের পাঁচ-ছয় জন বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন। গৌরদা ছিলেন এবং আমিও। গৌরদা আমাকে দিলীপ কুমারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। দিলীপ কুমার আমার হাত ধরে একটু চাপ দিয়ে উর্দুতে যা বললেন, তা এখনো আমার মনে মুদ্রিত হয়ে আছে। বাংলায় তার অর্থ হলো, ‘তুমি তো বাঘের দেশের লোক। বাঘ এখন জেলে। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস, তিনি শিগিগর বেরিয়ে আসবেন এবং তোমাদের দেশ স্বাধীন হয়ে যাবে। যদি কোনো দিন সুযোগ পাই, তাহলে এই শেরকা বাচ্চাকে প্রণাম জানাব।’ এই বিখ্যাত তারকাকে সামনাসামনি আমার এই প্রথম এবং শেষ দেখা। তারপর কেবল ছবিতে দেখেছি। প্রত্যক্ষভাবে দেখার সুযোগ আর হয়নি। দীর্ঘ ৯৮ বছর বয়সে দিলীপ কুমার লোকান্তরিত হয়েছেন। তার বন্ধু এবং সহনায়ক ও সহনায়িকারা অনেকেই আজ আর নেই। দেবানন্দ, রাজ কাপুর প্রমুখ শক্তিশালী অভিনেতাও নেই। দিলীপ কুমার যার সঙ্গে প্রথম প্রেমে পড়েছিলেন, সেই রূপসী অভিনেত্রী কামিনি কৌশলও হয়তো এখন নেই। নার্গিস অভিনেত্রী জীবন থেকে পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। মৃত্যুর আগে চিকিত্সার জন্য গিয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের জর্জ ওয়াশিংটন হসপিটালে। তিনি যে কক্ষে মারা যান, সেই কক্ষে পরে মারা যান প্রেসিডেন্ট নিক্সন। আমি সেই হাসপাতালে বেড়াতে গিয়ে সেই কক্ষের দেওয়ালে নার্গিস ও প্রেসিডেন্ট নিক্সনের ছবি ঝুলতে দেখেছি। মনে মনে গর্ব অনুভব করেছি। নার্গিসের প্রেমে পড়া নিয়ে দিলীপ কুমার ও রাজ কাপুরের মধ্যে মনোমালিন্যেরও অনেক খবর কাগজে বেরোত। মুখরোচক খবর ছিল তখন মুম্বাইয়ের সবচাইতে সুন্দরী নায়িকা মধুবালা ও দিলীপ কুমারের ভালোবাসা নিয়ে। কী একটা ব্যাপারে অভিযোগ ওঠে দিলীপ কুমার মধুবালার বাবাকে অপমান করেছেন। মধুবালা দাবি করলেন, দিলীপ কুমারকে তার বাবার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। দিলীপ কুমার রাজি হননি। এই প্রেম ভেঙে যায়। পরে মধুবালা যখন কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন, তখন দেবানন্দ চেয়েছিলেন দিলীপ কুমারের সঙ্গে মধুবালার ভুল-বুঝাবুঝিটা দূর করতে। ভুল-বুঝাবুঝি দূর হয়েছিল, কিন্তু মধুবালার বিয়ে তখন কিশোর কুমারের সঙ্গে হয়ে গেছে। মধুবালা দিলীপ কুমারকে ভোলেননি। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি ভগ্নহূদয়ে মারা যান। এই সব খবরই আমার জানা ছিল।
সায়রা বানু দিলীপ কুমারের শেষ প্রেম এবং তাকেই তিনি বিয়ে করেন। তার মৃত্যুর সময়ও সায়রা বানুই তার শিয়রে ছিলেন। হাসপাতালে তার সেবাযত্ন করেন। দিলীপ কুমারের মৃত্যুতে শুধু ভারতের নয়, শুধু উপমহাদেশেরও নয়, সারা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক অভিনেতার মৃত্যু হলো। আমি সাহস করে বলতে পারি, শুধু বলিউডে নয়, হলিউডেও তার সমান প্রতিভার অভিনেতা এক-দুই জনের বেশি নেই। ১৯৭২ সালে ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আমি যখন মুম্বাইয়ে যাই, তখন মুম্বাই ফিল্ম জগতের খাজা আহমেদ আব্বাস, মুলকরাজ আনন্দ ও নার্গিসের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাই। নার্গিসকে জিগ্যেস করেছিলাম, ‘আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ নায়ক কে?’ তিনি অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। তাও একটু রঙিন হেসে বললেন, ‘আমি ইমোশনালি রাজ কাপুরকে পছন্দ করি, কিন্তু প্রফেশনালি আমার কাছে দিলীপ কুমার শ্রেষ্ঠ নায়ক।’ বাংলাদেশে যেমন নায়িকা পরীমনিকে নিয়ে সম্প্রতি একটা ঘটনা ঘটল, তেমনি একটি ঘটনা বহুকাল আগে মুম্বাইতে ঘটেছিল মধুবালাকে নিয়ে। সৌন্দর্য ও খ্যাতিতে মধুবালা তখন অতুলনীয়া। ‘মহল’ ছবিতে অশোক কুমারের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে সারা উপমহাদেশে নন্দিত। এর কিছুদিন পরেই জানা গেল তিনি অপহূতা হয়েছেন। মুম্বাইয়ের কোনো এক ক্লাব থেকে মাঝরাতে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ঢাকা, কলকাতার বাংলা কাগজগুলো তখন মধুবালাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ও গুজব ছাপিয়েছে। পরীমনিকে যেভাবে ফেসবুকে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে চরিত্র হরণের চেষ্টা করা হয়েছে, মুম্বাইয়ের সেই সুন্দরী নায়িকা মধুবালাকে নিয়েও সেইভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছিল, তার চরিত্র হরণের চেষ্টা হয়েছিল। মুম্বাইয়ের অধিকাংশ চিত্রতারকা এই প্রচেষ্টার নিন্দা করেছিলেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই মধুবালা তার পূর্ব গৌরব ফিরে পেয়েছিলেন। বাংলাদেশে পরীমনির ব্যাপারেও তাই ঘটুক এটা আমার একান্ত কামনা।
যৌবনকাল থেকে সেই যে রাজনৈতিক কলাম লেখা ধরেছি; সাহিত্য, সিনেমার দিকে তাকাইনি। আমার বন্ধু ও সহপাঠী ছিলেন জহির রায়হান। তার যেমন ছিল সাহিত্যিক হিসেবে নাম, তেমনি ছিল চলচ্চিত্র নির্মাণেও খ্যাতি। তার বিখ্যাত ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে আমার রচিত ভাষা আন্দোলনের সেই একুশে ফেব্রুয়ারি গানটি রয়েছে, যাতে শহিদ সুরকার আলতাফ মাহমুদ সুর দিয়েছেন। জহিরের সহপরিচালক রহিম নেওয়াজ (সম্ভবত এখনো বেঁচে আছেন) তার ছবিতে গান লেখার জন্য আমাকে টানাটানি করেছেন, কয়েকটি লিখেছিও, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। আর ফিল্মি জগত্ অথবা তার তারকাদের নিয়ে মাথা ঘামাইনি। উত্তম-সুচিত্রা জুটি যখন ভেঙে গেল, তারপর কলকাতার বাংলা ছবির মান এত নিচে নেমে গিয়েছিল যে দেখতে ইচ্ছে হতো না এবং দেখিওনি। ঢাকার ছবির তখন যাত্রা শুরু, মান খুব উঁচু ছিল না। জহির রায়হান ও আলমগীর কবিরের মৃত্যুর পর ঢাকার ছবি আর মনে টানেনি। এর মধ্যে ঢাকার ছবিতে নায়ক হয়ে এলেন নায়করাজ রাজ্জাক, অভিনেত্রী হয়ে এলেন সুচন্দা, ববিতা, কবরী, সুবর্ণা মুস্তাফা এবং আরো অনেকে। তাদের ছবিও খুব একটা দেখিনি। কারণ দীর্ঘ চল্লিশ বছর আমি বিদেশে। সম্প্রতি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের এক হাসপাতালে দুই মাস ছিলাম। একটু ভালো হয়ে উঠতেই সময় কাটানোর জন্য মোবাইল ফোনে ঢাকার বাংলা সিনেমা ও নাটক দেখা শুরু করলাম। দেখে বিস্মিত হলাম, কলকাতা ও মুম্বাইকে টেক্কা দেওয়ার মতো ছবি এখন তৈরি হচ্ছে ঢাকায়। অভিনয়েও ঢাকা এখন কলকাতা ও মুম্বাইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। আমি এখন সময় পেলেই ঢাকার বাংলা ছবি ও নাটক দেখি। তারেক মাসুদ আমার প্রিয় পরিচালক ছিলেন। নিউ ইয়র্কে তার বাসায় বসে তার বউয়ের হাতের রান্না খেয়েছি এবং তার ছবি দেখেছি। দুর্ঘটনায় তার অকালমৃত্যু আমাকে দারুণ আঘাত করেছে। তানভীর মোকাম্মেলের ছবি আমাকে অভিভূত করে। ভালো লাগে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনার অভিনবত্ব। পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর ‘গেরিলা’ ছবি এবং তাতে জয়া আহসানের অভিনয় আমাকে এতটাই অভিভূত করেছিল যে তাকে নিয়ে ইত্তেফাকের দশদিগন্তের কলামে আলোচনা করেছিলাম। গেরিলা ছবি তৈরি করে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ঢাকার বাংলা ছবির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এখন কলকাতায় যেমন দুই-তিন দশক আগের ইন্দ্রানী হালদার, শতাব্দী রায়, দেবশ্রী এবং বিশেষ করে রচনা ব্যানার্জি যেমন আমার প্রিয় তারকা, তেমনি ঢাকার পর্দার জয়া আহসান, বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, তারিন, নুসরাত ইমরোজ তিশা, শাবনুর আমার প্রিয় অভিনেত্রী। অভিনেতাদের মধ্যে আসাদুজ্জামান নূর, হুমায়ুন ফরীদি, রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী জাকের, গোলাম মুস্তাফা, হাসান ইমাম, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় নাটক ও চলচ্চিত্রে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করেছেন। তা ছাড়া ফেরদৌস, রিয়াজ এবং আরো এক-দুজনের অভিনয় আমার ভালো লাগে।
দিলীপ কুমারের মৃত্যুকে উপলক্ষ্য করে আমি ঢাকা ও কলকাতার চিত্রজগত্ নিয়ে একটু আলোচনা করলাম। অবান্তর হলে পাঠকেরা আমাকে ক্ষমা করবেন। দিলীপ কুমারের চরিত্রের সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তিনি ছিলেন বলিউডের সবচাইতে অসাম্প্রদায়িক অভিনেতা। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়ার সময় মুম্বাই থেকে অনেক মুসলমান অভিনেতা পাকিস্তানে চলে যান। কোকিলকণ্ঠী নামে পরিচিত গায়িকা ও অভিনেত্রী নুরজাহানও লাহোরে চলে যান। এ সময় দিলীপ কুমার ঘোষণা দেন, তিনি ভারত ছেড়ে যাবেন না। তিনি কবি ইকবালের কবিতার লাইন আবৃত্তি করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘হিন্দুস্তান হামারা হ্যায়, হাম উসকি বুলবুল, ইয়ে গুলিস্তান হামারা হ্যায়।’ একবার মুম্বাইয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় তার জীবন বিপন্ন হয়েছিল। তিনি ভারত ছাড়েননি। তার মৃত্যুতে আজ শুধু ভারত নয়, সারা উপমহাদেশ শোকাভিভূত। দিলীপ কুমার, উপমহাদেশের চলচ্চিত্রজগতের হে মহানায়ক, তোমাকে চিরবিদায়ের শেষ শ্রদ্ধা জানাই।
n লন্ডন, ৭ জুলাই, বুধবার, ২০২১