চট্টগ্রাম বন্দরের ড্রাইডকে ডাবল চার্জ জটিলতার অবসান চান শিপিং এজেন্টরা

সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রাম বন্দরের ড্রাইডক লিমিটেডের জেটিতে ডাবল চার্জ জটিলতার আশু অবসান চায় বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএএ)। বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা যেসব জাহাজ ড্রাইডকে মেরামতের জন্য বার্থ নিয়ে থাকে সেসব  জাহাজ বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ড্রাইডক লিমিটেড উভয় সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘হায়ার চার্জ অব বিল’ পরিশোধ করতে বলায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে শিপিং এজেন্ট সূত্রগুলো জানায়। বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা যেসব জাহাজ ড্রাইডকে মেরামতের কাজের জন্য বার্থিং নিয়ে থাকে সেসব জাহাজের শিপিং এজেন্টরা ড্রাইডক লিমিটেডের বিল সম্পূর্ণ পরিশোধ করে। কিন্তু বন্দরের পাওনা বা পোর্ট ডিউজ পরিশোধের সময় বন্দর কর্তৃপক্ষও ড্রাইডকে বার্থিং করা জাহাজের জন্য ‘হায়ার চার্জ অব বিল’ দাবি করায় সেসব জাহাজের বন্দর ত্যাগে ছাড়পত্র গ্রহণ বা এনওসি পেতে জটিলতা ও অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয় বলে শিপিং এজেন্টরা জানান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষই ড্রাইডকে জাহাজের অবস্থানের জন্য বার্থ হায়ার চার্জ আদায় করবে।

বিএসএএর চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান গত ১৬ জুন শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বন্দরের          গতিশীলতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক বৈঠকে বন্দরের প্রধান হিসাবরক্ষককে ড্রাইডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে এই জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেহেতু দুটি প্রতিষ্ঠানই সরকারি, সেহেতু তারা ডাবল চার্জ না করে একবারই এই চার্জ আদায় করে কীভাবে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আদায়কৃত অর্থ সমন্বয় করবে তা একটি চুক্তির মাধ্যমে ফয়সালা করার জন্যও প্রধান হিসাবরক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান জানান, এখন পর্যন্ত বিষয়টির কোনো ফয়সালা হয়নি। তিনি বলেন, তাদের জানা মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদী সীমানায় কাফকো, চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড, টিএসপি, বিপিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জেটি রয়েছে। তারা বন্দরের ভেতর তাদের জেটি ব্যবহারের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে বার্থ হায়ার চার্জের আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ বা পার্সেন্টেজ বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শেয়ার করে। কিন্তু ড্রাইডক লিমিটেড এই শেয়ারিং মানতে রাজি নয় বলে মনে হচ্ছে। জটিলতার শিকার হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত শিপিং এজেন্টরা শুধু ড্রাইডক লিমিটেডের কাছেই বার্থ হায়ার চার্জ পরিশোধ করছে। বন্দরের দাবিকৃত চার্জ তারা পরিশোধ করছে না। এতে ঝামেলা হচ্ছে, ছাড়পত্র পেতে বিস্তর সময় নষ্ট হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বার্থ হায়ার চার্জ আদায় করবে এবং সেখান থেকে ড্রাইডকের শেয়ার তারা বুঝিয়ে দেবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, গত ১৬ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিপিং এজেন্টদের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে এখনো পর্যন্ত ড্রাইডক লিমিটেডের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি হয়নি। তবে বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের দিকে যাচ্ছে।

তবে চট্টগ্রাম ড্রাইডকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর কিসলু ইত্তেফাককে বলেন, ড্রাইডক লিমিটেডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের কি এগ্রিমেন্ট হবে বা কোন বৈঠকে ড্রাইডকের বার্থ হায়ার চার্জ নিয়ে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।

এদিকে গত ১৬ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বিএসএএর বৈঠকের ১৪ (ঘ) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বরাবর গত ৩ জুলাই একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গত ১৬ জুনের বৈঠকে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যেসব পণ্যবাহী জাহাজ মেরামতের জন্য ড্রাইডক জেটিতে বার্থ নেয় সেসব জাহাজের জন্য ড্রাইডক জেটি ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ—উভয় সংস্থাকেই চার্জ পরিশোধ করতে হয়। এই ডাবল পেমেন্ট হওয়ার কারণে পণ্য হ্যান্ডলিং ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঐ সভায় বন্দরের অর্থ ও হিসাব বিভাগের প্রতিনিধি জানান যে, ড্রাইডক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে। চুক্তি হলে এই জটিলতা থাকবে না। সভায় চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান যথাশিগিগর ড্রাইডকের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের নির্দেশ দেন।