পূর্ব আফ্রিকার দেশ মরিশাসে কাজের জন্য গিয়ে মালিকের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি নারী। এই ঘটনায় গতকাল শনিবার বিকালে তিনি রামপুরা থানায় মানবপাচার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় মামলাও করেছেন। এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে সাহায্য চেয়েছেন। মন্ত্রণালয় তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ওই নারীর অভিযোগ, আসামিরা তাকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। তিনি ন্যায়বিচার চান। এ ঘটনায় রিক্রুটিং এজেন্সি এম আক্তারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস ফকির।
মামলা সূত্রে এবং ওই নারীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত বছর ৫ ফেব্রুয়ারি মরিশাস পৌঁছানোর পর কোম্পানীর গাড়ীতে বিমানবন্দর থেকে তাকে ফায়ার মাউন্ট কোম্পানীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইল কোম্পানীতে হেলপার হিসাবে কাজ শুরু করেন তিনি। তবে ঠিকমত বেতন দেওয়া হতো না। মরিশাসে অবস্থানরত ওই ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইলের কর্মীদের ক্যান্টিন পরিচালনা করেন বাংলাদেশি মোহাম্মদ শাহ আলম (৪৩), যার বাড়ি ফেনী। এই শাহ আলম এবং তাঁর সহযোগী ফুরকান, সিদ্দিক ও আসলাম একদিন তাকে ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইলের মালিক অনিল কোহলি’র বাসায় নিয়ে যায়। এরপর মালিকের রুমে তাকে রেখে বাইরে চলে যায়। আর সেইদিনই মালিক অনিল কোহলি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, এরপর ভিডিও ধারণ করা আছে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে শাহ আলম ও কোম্পানির মালিক অনিল কোহলি প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করতো তাকে। একদিন শাহ আলম প্রস্তাব দেন মালিকের বন্ধুর সাথে রাত কাটাতে। এই প্রস্তাবে রাজি না হলে আবার নির্যাতন করেন। ভু্ক্তভোগী নারীর অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লে মরিশাসের একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলেন।
বাংলাদেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনে এই খবর প্রকাশের পর মরিশাসের কয়কেটি গণমাধ্যমও সংবাদটি প্রকাশ করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি উঠে। এরপর অভিযুক্তরা নানাভাবে সমঝোতার প্রস্তাব দিচ্ছে ভুক্তভগী নারীকে।