বর্ণালি

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

 

 

গতকালের পর

 

এক্সরে? বলল অণু।

হ্যাঁ, এক্সরে। এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা ০.০৬ অ্যাংস্ট্রম থেকে ১৪০০ অ্যাংস্ট্রম পর্যন্ত। এক্সরে টিউব থেকে এই রশ্মি পাওয়া যায়। অনেক ধরনের কাজে লাগে এক্সরে।

চিকিত্সায়, বলল রেখা। আর?

চিকিত্সায়, গবেষণায়, শিল্পকারখানায়, নিরাপত্তা রক্ষায়, গোয়েন্দা বিভাগে এক্সরে কাজে লাগে।

গোয়েন্দা বিভাগে কী রকম? চন্দ্রা জানতে চায়।

গোয়েন্দা বিভাগে যেমন ধর চোরাচালানিরা শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে অবৈধ কিছু পাচার করছে কি-না, এটি জানার জন্য। একবার ছিনতাইকারি এক মহিলার কানের দুল ছিনতাই করে ধরা পড়েছে। মানুষ তো উত্তম মধ্যম দিচ্ছে। এক ফাঁকে সে দুলটা গিলে ফেলেছে। এখন তো আর কেউ তার কাছে পাচ্ছে না, সে বলছে আমি কিছু নিইনি। কীভাবে দেখবে সে নিয়েছে কি-না?

সবাই হেসে ফেলল। বিন্দু বলল পেট কেটে দেখতে হবে।

নীলকান্তবাবু বললেন-পেট যাতে না কাটতে হয়, সেই জন্য এক্সরে এর

ব্যবহার। এক্সরের চেয়ে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি হলো অতিবেগুনি রশ্মি বা আল্ট্রাভায়োলেট রে। এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা ১০০০ অ্যাংস্ট্রম থেকে ৪০০০ অ্যাংস্ট্রম পর্যন্ত। সূর্য থেকে অথবা অত্যন্ত উত্তপ্ত বস্তু থেকে এই রশ্মি পাওয়া যায়। এই রশ্মি বেশি ব্যবহূত হয় শরীরে ভিটামিন D তৈরির কাজে। এরপর আয়নায়ন ঘটাতে অথবা প্রতিপ্রভা সৃষ্টিতে, আলোকতড়িত্ ক্রিয়া সংঘটনে এই রশ্মি কাজে লাগে।

এর চেয়ে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মিই হচ্ছে দৃশ্যমান বর্ণালি বা আলোর বর্ণালি। যেটা আমরা এতক্ষণ আলোচনা করলাম। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা ৪০০০ থেকে ৮০০০ অ্যাংস্ট্রম পর্যন্ত।

সীমা বলল-জানি। বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০০ আর লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৮০০০ অ্যাংস্ট্রম।

বর্ণালি বলল-বেগুনি আর অতিবেগুনি এক না?

না, বলল অণু। বেগুনির চেয়ে অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম।

নীলকান্তবাবু বললেন-দৃশ্যমান বর্ণালির চেয়ে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি হচ্ছে অবলোহিত রশ্মি বা ইনফ্রারেড রে। এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা ৮০০০ অ্যাংস্ট্রম থেকে ০.০৪ সেন্টিমিটার। সূর্যরশ্মি কিংবা সকল উত্তপ্ত বস্তু কিংবা ইনফ্রারেড ল্যাম্প নামক বিশেষ ধরনের বাতি থেকে এই রশ্মি পাওয়া যায়।

এই রশ্মি আমরা দেখি না? বলল বর্ণালি।

না।

তাহলে কী কাজে লাগে?

এই রশ্মিতে আলোর চেয়ে তাপের পরিমাণ বেশি। এই জন্য একে তাপরশ্মিও বলা হয়। ফলে বিভিন্ন রোগের চিকিত্সায়, জ্যোতির্বিদ্যায়, শিল্প কারখানায় এই রশ্মি ব্যবহূত হয়। অন্ধকারে দেখার জন্য গগলসএ এই রশ্মি ব্যবহূত হয়। অন্ধকারে ছবি তোলার জন্য এই রশ্মির ক্যামেরা ব্যবহূত হয়। বায়ু অথবা ঘন কুয়াশার মধ্য দিয়েও অবলোহিত রশ্মি ভেদ করে যেতে পারে। অবলোহিত রশ্মির চেয়ে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি হচ্ছে হ্রস্বতরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভ।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন? বলল বর্ণালি। আমাদের বাসায় একটা আছে।

না ওভেন না। তবে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে এই রশ্মি ব্যবহূত হয়, বললেন নীলকান্তবাবু। এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা ০.০৪ সেন্টিমিটার থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত।