সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের তত্পরতা বেড়েছে

চার পাচারকারী আটক

এইচ এম দুলাল, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

চলমান লকডাউনে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী নিধনে চোরা শিকারিদের তত্পরতা বেড়েছে। প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার সুযোগে তারা বিভিন্ন কৌশলে ছোট ছোট খাল দিয়ে বনের অভ্যন্তরে ঢুকে ফাঁদ পেতে হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী হত্যা ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে। চোরা শিকারিদের এমন তত্পরতায় হুমকিতে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বনবিভাগের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকানো যাচ্ছে না। গত ৫ ও ৯ জুলাই দুই দফায় অভিযান পরিচালনা করে হরিণ শিকারের ফাঁদ, দড়ি, বিষের বোতল, জালসহ চার পাচারকারীকে আটক করে বনবিভাগ।

চাঁদপাই রেঞ্জ স্টেশন কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে তিন চোরা শিকারিকে আটক করে বনবিভাগ।  শরণখোলা রেঞ্জের কাতলেশ্বর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ১৫০ ফুট নাইলনের দড়ির ফাঁদ ও একটি দা জব্দ করা হয়। এছাড়া গত ৬ জুলাই সকালে গোপন খবরের ভিত্তিতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের পশুর নদীতে অভিযান চালিয়ে বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতিকালে একটি নৌকা, ১৬ বোতল ও ছয় প্যাকেট বিষ, একটি জাল ও বরফ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানকালে জেলেরা নদীতে ঝাঁপিয়ে বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় বন আইনে মামলা হয়েছে। এদিকে গত ৫ জুলাই সকালে পূর্ব সুন্দরবন চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারি ও কাটাখালির সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা  থেকে একাধিক বন  মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সাজ্জাক ব্যাপারীকে তিন বোতল বিষ, তিন বস্তা হরিণ শিকারের ফাঁদ এবং মাছসহ আটক করা হয়। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের প্রধান বনসংরক্ষক (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের যেকোনো তত্পরতা রোধে বনবিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। লকডাউনে বনের অভ্যন্তরে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত টহল দিচ্ছে বনরক্ষীরা।