গাইবান্ধা প্রতিনিধি
জেলার অন্যতম চিকিত্সাকেন্দ্র গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে করোনা মহামারিতেও সাধারণ রোগীর চাপ বেড়েছে। মেঝেতে রেখে অনেক রোগীর চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ রোগীর শয্যার পাশে করোনা ইউনিট খোলা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে চিকিত্সা নিতে আসা মানুষের উপচেপড়া ভিড়। টিকিট কাউন্টার ও ফার্মেসির সামনে জটলা। হাসপাতালের দোতলা ও নিচতলার সব শয্যায় রোগী। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের মেঝেতে সারি সারি রোগী। হাসপাতাল জুড়ে রোগীদের সঙ্গে আসা লোকজনের কোলাহল। দোতলায় শিশু ওয়ার্ডে খোলা হয়েছে ২০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার (করোনা ইউনিট)। নিচ তলায় পুরুষ ওয়ার্ডের পাশের কক্ষে শ্বাসকষ্টের রোগী। তাদের করোনার নমুনা নিয়ে অপেক্ষমাণ কক্ষে রাখা হয়েছে। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে তাদের করোনা ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হবে বলে কর্তব্যরত সেবিকারা জানালেন। সেবিকারা আরো বললেন, কয়েক জন রোগী আছেন সড়ক দুর্ঘটনার। পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীও আছে। এর মধ্যে ২৮ থেকে ৩০ জন শ্বাসকষ্টের রোগী রয়েছেন। গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় এই হাসপাতাল ছিল একেবারেই ফাঁকা।
শনিবার দুপুরে হাসপাতালে রোগী দেখতে আসা জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতা সুজন প্রসাদ বলেন, মহিলা ওয়ার্ডের পাশে করোনা ইউনিট ও পুরুষ ওয়ার্ডের পাশে নমুনা নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য অপেক্ষমাণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নমুনা দেওয়া এসব ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া করোনা ইউনিটে থাকা রোগীদের আত্মীয়স্বজনরাও অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। সাধারণ রোগীদের ঘোরাফেরা তো আছেই। ফলে কে সাধারণ রোগী কে করোনা রোগী তা বোঝার উপায় নেই। হাসপাতালে যাওয়াই এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। করোনা মহামারির সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কেন জানতে চাইলে পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাবাড়ি গ্রামের মিঠু মিয়া (৩৫) বললেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে গত বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত একই উপজেলার বালাআটা গ্রামের সৈয়দ আলী (৫০) বললেন, দুর্গন্ধে বাথরুমে যাওয়া যায় না।
হাসপাতালের সেবিকা শিরিনা খাতুন বলেন, গত বছর করোনার সময় হাসপাতালের শয্যাগুলো ফাঁকা ছিল। আমরা স্বস্তিতে ছিলাম। এবার রোগীর চাপ সামলাতে দৌড়ের ওপর থাকতে হচ্ছে। আরেক সেবিকা জিন্নাত বেগম বলেন, ভয়ে কাজ করতে হচ্ছে। কারণ কার মধ্যে করোনা আছে, সেটা বোঝার উপায় নেই।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. সারোয়ার জাহান বলেন, করোনা মহামারির সময়েও দৈনিক বহির্বিভাগে ৪০০-৫০০ জন চিকিত্সা নিচ্ছেন। হাসপাতালে গড়ে রোগী ভর্তি থাকছে ২৫০-৩০০ জন। শুক্রবার ভর্তি ছিল প্রায় ৩০০ জন। তিনি আরো বলেন, করোনার মধ্যে যারা আসছেন তারা মারামারির ঘটনায় আহত। এ ছাড়া গ্যাস্ট্রিক, পেটব্যথা, রক্তশূন্যতা, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীও রয়েছে।
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) হারুণ-অর-রশিদ বলেন, এ বছর করোনা মহামারির সময়েও হাসপাতালে সাধারণ রোগীর চাপ বেশি। লোকবলের অভাবে এসব রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ এই হাসপাতালে ২০ জন চিকিত্সক ও ১৬ জন ঝাড়ুদার এবং ২০-২২ জন তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। বলা চলে ১০০ শয্যার লোকবল দিয়ে ২০০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে হচ্ছে। করোনা ও সাধারণ রোগী একাকার প্রসঙ্গে আরএমও বলেন, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে সতর্কতামূলক প্রচারণা চলছে। আমরাও সতর্ক করছি। তার পরও অপেক্ষমাণ ইউনিটে থাকা ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব দেখভালের জন্য আমাদের তেমন লোকবল নেই। স্বেচ্ছাসেবকও দেওয়া হয়নি। ফলে ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর ফলে গোটা হাসপাতাল করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাথরুম অপরিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঝাড়ুদার পদে প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় বাথরুমগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা যাচ্ছে না।