ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
কোরবানি এগিয়ে এলেও এখনো মিলছে না ঝিনাইদহের বীর বাহাদুর ও রাজাবাবুর ক্রেতা। বিশাল সাইজের গরু দুটির খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা। বীর বাহাদুরের ওজন আনুমানিক ৩০ মণ হবে। রাজাবাবুর ওজনও একই রকম। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান জানান, তিন বছর আগে ৩ লাখ সাড়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফ্রিজিয়ান জাতের বাছুরটি কেনেন তিনি। তারপর থেকে মোটাতাজা করছেন। গরুটি বর্তমানে ৯ ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা ও সাড়ে পাঁচ ফুট উঁচু হয়েছে। তার ওজন হয়েছে আনুমানিক সাড়ে ১৪ শ কেজি। প্রতিদিন খাবার লাগছে ১ হাজার ২০০ টাকার। করোনার কারণে ক্রেতা মিলছে না। কিছুদিন আগে এক ব্যাপারী ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা দাম করেছিলেন। তারপর আর কেউ দাম করেনি। আতিয়ার রহমান বলেন, ১০ লাখ টাকা হলে তিনি বীর বাহাদুরকে বিক্রি করবেন। একই উপজেলার ভগবাননগর গ্রামের রাজাবাবুর ওজনও বীর বাহাদুরের মতো হবে। এ গরুটির মালিক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বছর তিনেক আগে সিন্ধী জাতের এ বাছুরটি কেনেন ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে। গরুটি দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। মালিক দাম হাঁকছেন ৩০ লাখ টাকা। তবে করোনার কারণে ক্রেতা মিলছে না। তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে এক ব্যাপারী ১৪ লাখ টাকা দাম করেছিলেন। এরপর আর কেউ আসেননি শুধু বীর বাহাদুর ও রাজাবাবু নয়। এ রকম আরো অনেক বড় বড় চোখ জুড়ানো গরু খামারিদের গোয়ালে গোয়ালে রয়েছে। এসব গরু ব্যাপারীরা কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নিয়ে যেতেন। এবার তারা আসছেন না। তাই গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। শৈলকুপা উপজেলার সাতগাছি গ্রামের খামার মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, তার খামারে ১২টি বড় বড় গরু রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা মিলছে না। গরুগুলো নিয়ে তিনি বিপদে আছেন। গত বছরও লোকসান দিয়েছেন। গোখাদ্যের দাম চড়া। ফলে গরু মোটাতাজা করা লাভজনক নয়। করোনার কারণে ব্যাপারীরা আসছেন না বলে জানান তিনি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, এবার কোরবানির হাটের জন্য ঝিনাইদহ জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার গরু ও ৫০ হাজার ছাগল মোটাতাজা করা হয়েছে। করোনার কারণে জেলার পশু হাটগুলো বন্ধ রয়েছে। অনলাইন কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৬০০ গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।