তানভীর তারেক
যখন শুধু ছবি নেই, তারকা নেই কিংবা হল নেই আলোচনা হচ্ছে তখন অনুল্লেখ্যই থেকে যায়, যারা সিনেমার বিভিন্ন ছোটখাটো চরিত্রে অংশ নেন। ফিল্মি ভাষায় তাদের বলা হয় এক্সট্রা। যারা প্রতিদিনকার মজুরির ওপরেই নিজেদের পরিবার বা সংসার চালায়। তাই এই লকডাউনে খাঁ খাঁ করা এফডিসি ফ্লোরে এই প্রতিবেদক গেলে সেই অভিনয়শিল্পীরা বলেন, ‘কবে থেকে শুটিং শুরু হবে। একটু বলে দেন। আপনারা একটু লেখেন। হঠাত্ হঠাত্ এক-দুই দিনের দানে তো কিছু হয় না!’ এমন হাহাকারের গল্পের ওপরেই দাঁড়িয়ে বর্তমান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।
একদিকে বিশ্বায়নের সিনেমা আর ফেস্টিভ্যালের নানা চকচকে সাফল্যে যখন এক-দুটি ছবি নিয়ে আলোচনা তখন মুদ্রার ঠিক উল্টো দিকেই মেইনস্ট্রিম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এই হাহাকার চলমান। সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে বিএফডিসিতে এখন সব ধরনের শুটিং বন্ধ। সে কারণে সিনেমার অতিরিক্ত শিল্পী-কলাকুশলীরা কর্মহীন পড়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা পেয়েছেন অনেকেই। অনুদানের টাকা যা পেয়েছেন, তা দিয়ে ১ মাসের বাজারও হয়নি। জুনিয়র শিল্পীদের মধ্যে পরিচিত মুখ নিরঞ্জন বলেন, ‘আমরা রোজ হাজার টাকা করে পেতাম। এখন শুটিং নেই। আয়ও নেই। মাঝে কিছুদিন শুটিং হলো। করোনা বেড়ে যাওয়ায় আবার বন্ধ হলো। আমাদের দিন কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।’
পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার যেহেতু কঠোর লকডাউন দিয়েছে, আমরাও সেটা যথাযথ মেনে চলতে শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
৫৫ বছর বয়সী অতিরিক্ত শিল্পী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘মায়ায় পড়ে এখানে আছি। বলতে পারেন কিছু পাবো, তার আশায়ও বসে আছি। মনে হয় এফডিসিতে গেলে কাজ না পেলেও অন্তত বাজার খরচটা পাবো। কিন্তু শুটিং না থাকলে তো কেউ আসেন না। কে সহায়তা করবে আমাদের?’ আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমাদের মতো এক্সট্রাদের দেখার কেউ নেই। এখন তো শুটিং বন্ধ। আগামী দিনগুলোতে কী হবে তা বুঝতে পারছি না। চোখে অন্ধকার দেখছি।’
এফডিসির প্রডাকশন বয় মতিউর রহমান বলেন, ‘সরকার থেকে কিছু টাকা পেয়েছিলাম, সেটা তো কবেই শেষ। এখন কীভাবে চলব? কী খাবো? আমরা ভিক্ষা করে তো খেতে পারব না। এখানে সহকারী ব্যবস্থাপক নামে একটি সমিতি আছে। যে সমিতির তিনশ’র অধিক সদস্য। শুটিং বন্ধ হওয়ায় সবাই বিপাকে পড়েছেন। তাই এ ব্যাপারে চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের এই শ্রমিক শিল্পীরা।