মৃত্যু-শনাক্ত দুটোতেই রেকর্ড

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে দেশে আবারও একই দিনে শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৩০ জনের। আর এ সময়ে আরো ১১ হাজার ৮৭৪ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।            মহামারিকালের মধ্যে এটি এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

ভাইরাসের ডেলটা ধরনের বিস্তারের কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরেই রেকর্ডের ভাঙাগড়া চলছে, পরিস্থিতি ক্রমশ আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত ৯ জুলাই দেশে রেকর্ড ২১২ জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল। তার আগের দিন রেকর্ড ১১ হাজার ৬৫১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তিন দিনের মাথায় সব রেকর্ড ভেঙে গেল। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৪১৯ জনের মৃত্যু হলো করোনা ভাইরাসে। শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১০ লাখ ২১ হাজার ১৮৯ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৩৯ হাজার ৮৬০টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪০ হাজার ১৫টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬৯ লাখ ৭১ হাজার ১৬৭টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫১ লাখ ১ হাজার ৭১২টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫৫টি। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৩০ জনের মধ্যে পুরুষ ১৩৩ জন আর নারী ৯৭ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন ১১ হাজার ৫০৮ জন আর নারী মারা গেছেন ৪ হাজার ৯১১ জন। তাদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ষাটোর্ধ্ব রয়েছেন ১১১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৯ জন আর ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন সাত জন।  তাদের মধ্যে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা বিভাগের আছেন ৫৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৯ জন, রাজশাহী বিভাগের ২৬ জন, খুলনা বিভাগের ৬৬ জন, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের আট জন করে, রংপুর বিভাগের ২২ জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন পাঁচ জন। মারা যাওয়া ২৩০ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬৯ জন, বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৪২ জন আর বাড়িতে মারা গেছেন ১৯ জন।

ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা: এদিকে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি করুণ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর তাতে করে বিপদে পড়তে হবে বলেও জানিয়ে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ‘গত মাসে সারা দেশে সংক্রমণের হার অনেক বেশি ছিল। জুন মাসে ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন রোগী সংক্রমিত হয়েছেন। শুধু জুলাইয়ের প্রথম ১০ দিনে প্রায় ১ লাখ রোগীকে সংক্রমিত হতে দেখতে পেয়েছি। আমরা যেভাবে সংক্রমিত হচ্ছি, হাসপাতালে রোগীর চাপ যদি বাড়তেই থাকে, আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে হাসপাতালের শয্যা আর খালি থাকবে না। সারা দেশে গত মাসেও অসংখ্য বেড খালি ছিল, আইসিইউ বেড খালি ছিল। সেই খালি বেডের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে মাত্র ৩০০র মতো কোভিড-১৯ আইসিইউ বেড খালি আছে।