সিলেট বিভাগে প্রতিদিন করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাড়ছে উদ্বেগ উত্কণ্ঠা। এক দিনে সর্বোচ্চ ৬০২ জনের করোনা শনাক্ত ও একই সময়ে আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বড় উত্কণ্ঠার কারণ হচ্ছে—হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার সংকট। এছাড়া অক্সিজেন সরবরাহের অপ্রতুলতা এই সংকটকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। অক্সিজেন সরবরাহ কম থাকায় আইসিইউ শয্যাসংখ্যা বাড়াতে পারছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলো।
কঠোর লকডাউন ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পরও সিলেটে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে পাঁচ গুণ। কিন্তু সরবরাহ নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া জানান, নতুন শনাক্ত ৬০২ জনের মধ্যে সিলেট জেলার ২১৫ জন। সুনামগঞ্জের ৮৮ জন, মৌলভীবাজারের ১৪২ জন ও হবিগঞ্জ জেলার ৮৭ জন। মারা যাওয়া সাত জনের মধ্যে সিলেট জেলারই ছয় জন। অপর জন সুনামগঞ্জ জেলার।
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম হোসেন বলেন, এ পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি মিলে ৭৭টি আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আইসিইউ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, আইসিইউতে কয়েক গুণ বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। সরবরাহ অপ্রতুলতার জন্য হাসপাতালগুলো সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়েও আইসিইউ চালু রাখতে পারছে না।
এদিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে আরেকটি করোনা ইউনিট চালু করা যাচ্ছে না সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায়। তিন মাস আগে নতুন ভবনে আরেকটি করোনা ইউনিট চালুর কথা বলেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। ১০০ শয্যার শহিদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ সরকারি হাসপাতালটিই এখন করোনা চিকিত্সার প্রধান ভরসা। নগরীর উপকণ্ঠে খাদিমনগর ৩১ শয্যার হাসপাতাল এবং দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যায় করোনা রোগীদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা থাকলেও হাসপাতাল দুটিতে আইসিইউ বা সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালেও একই অবস্থা।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, নতুন ভবনে আরেকটি পূর্ণাঙ্গ করোনা ইউনিট স্থাপন করতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রয়োজন। এখনো বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ হচ্ছে না।