ফুল গন্ধরাজ

লেখা ও ছবি :রেদোয়ান হোসেন

 

মন মাতানো গন্ধের জন্যই এ ফুলের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। এ ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Gardenia jasminoides, একে কেপ জেসমিনও বলা হয়। গার্ডেনিয়া শব্দটির উদ্যানের (গার্ডেন) সঙ্গে মিল থাকলেও এর উত্স অন্যত্র। প্রকৃতিবিদ ড. আলেক্সান্ডার গার্ডেনের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে।

পরিচর্যা ছাড়া সহজে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি বর্ণ-গন্ধ, পুষ্পপ্রাচুর্য ও দীর্ঘ স্থায়িত্বের কারণে এ ফুল বেশ জনপ্রিয়। গাছের বংশ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। ডাল কেটে পুঁতে রাখলেই হলো। পুঁতে রাখার দু-এক বছরের মধ্যে ফুল ফুটতে শুরু করে। এভাবেই গাছটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

গন্ধরাজ গাছ দৈর্ঘ্যে তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত হয়। সাদা রঙের এ ফুল সুগন্ধযুক্ত, বহুদলবিশিষ্ট। ফুল ফোটার মৌসুম বসন্ত থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত । ফোটার সময় দুধসাদা রং থাকলেও সময়ের সঙ্গে হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এর পরাগধানিও হলুদ রঙের। ফুলের ব্যাস তিন-চার ইঞ্চি। পাতা দৈর্ঘ্যে তিন থেকে ছয় ইঞ্চি  যা বিপরীত জোড়ে গজায়। পাতার রং গাঢ় সবুজ ও উপরিতল তৈলাক্ত। উচ্চ আর্দ্রতা ও উজ্জ্বল আলোয় ভালো জন্মে। এ ফুলের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ফুল শুকিয়ে যাওয়ার পরও সুগন্ধ থেকে যায় অনেক দিন। চিরসবুজ এ গাছের আদি নিবাস চীন।