এইচ. এম. ফেরদাউস হাসান রাসেল, প্রভাষক
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা
সুভা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রশ্ন-১: দুই ছেলের পর মেয়ের জন্ম। চৌধুরী পরিবারে যেন আনন্দের বন্যা। খাওয়া-দাওয়া, মিষ্টি বিতরণের শেষ নেই। নাম রাখা হলো অপরাজিতা। সবার চোখের সামনে অপরাজিতা বেড়ে ওঠার কিছুদিনের মধ্যে জানা গেল সে শ্রবণ প্রতিবন্ধী। চিকিত্সকের শরণাপন্ন হলে জানা গেল অপরাজিতা কথাও বলতে পারবে না, তবে চিকিত্সার মাধ্যমে তার শ্রবণ শক্তি আনা যেতে পারে। পরিবারের কেউ বিন্দুমাত্র নিরাশ হলো না বরং অপরাজিতার প্রতি সবার সচেতনতা বেড়ে গেল। তার মা তাকে লেখাপড়া শেখালেন; ছবি আঁঁকার ক্ষেত্রে তার জুড়ি নেই। আজ অপরাজিতা দেশের নামকরা নৃত্যশিল্পী।
ক. সুভাদের গ্রামের নাম কী? ১
খ. সুভাষিণী নামটি সার্থক হয়নি কেন ? ব্যাখ্যা
করো। ২
গ. উদ্দীপকের অপরাজিতার মায়ের সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের বৈসাদৃশ্য চিহ্নিত করো। ৩
ঘ. ‘চৌধুরী পরিবারের মতো পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা পেলে ‘সুভা’ গল্পের পরিণতি অন্যরকম হতো- বিশ্লেষণ করো। ৪
প্রশ্নের উত্তর:
ক) সুভাদের গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
খ) সুভা জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী ছিল বলে সুভাষিণী নামটি সার্থক হয়নি।
সুভার বাবা-মা তার বড় দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে তার নাম সুভাষিণী রেখেছিল। কিন্তু সে জন্ম থেকেই ছিল বাকপ্রতিবন্ধী। তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক বলে মনে করতেন। মূলত বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণেই সুভাষিণী নামটি সার্থক হয়নি।
গ) সুভা প্রতিবন্ধী ছিল বলে তার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করত। কিন্তু অপরাজিতা প্রতিবন্ধী জানার পর তার মায়ের সচেতনতা আরও বেড়ে গেল।
‘সুভা’[ গল্পে দেখা যায়, গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। আর এই কথা জেনে সুভার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। তিনি সুভাকে নিয়ে খুশি ছিলেন না। কারণ, মেয়েদের কোনো ত্রুটি থাকলে মায়েরা তা নিজের ত্রুটি হয়েছে বলে মনে করেন।
উদ্দীপকে চৌধুরী পরিবারে দুই ছেলের পর মেয়ে হয়। কিন্তু কিছুদিন পর জানা গেল যে তাদের মেয়ে অপরাজিতা শ্রবণ প্রতিবন্ধী। সে কথাও বলতে পারবে না। কিন্তু এ কথা শুনে তার মা নিরাশ হয়ে যাননি। বরং তার প্রতি সচেতনতা আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পের সুভার প্রতিবন্ধীতার জন্য তার মা নিজেকে দোষী মনে করেন। উদ্দীপকে অপরাজিতার মা তা করেননি। তাই বলা যায় যে, এই মনোভাবের বৈপরীত্যের জন্যই সুভার মা ও উদ্দীপকে অপরাজিতার মায়ের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ) চৌধুরী পরিবারের মতো পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা পেলে ‘সুভা’ গল্পের পরিণতি অন্যরকম হতো- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে নানা ধরনের মানুষ রয়েছে। কেউ সুস্থ স্বাভাবিক আবার কেউ তাদের থেকে একটু আলাদা যেমন; প্রতিবন্ধী। আমাদের উচিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অপরাজিতা শ্রবণ প্রতিবন্ধী। জানা গেল সে কথাও বলতে পারবে না। কিন্তু এটা জেনেও তার পরিবার নিরাশ হয়নি বরং তার প্রতি সচেতনতা আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু ‘সুভা’-গল্পে এরকম মনোভাব প্রকাশ পায়নি।
গল্পে সুভা একজন বাক্প্রতিবন্ধী মেয়ে। আর তাই তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক বলে মনে করেন। তিনি তাকে নিয়ে খুশি ছিলেন না। আর সে প্রতিবন্ধী ছিল বলে কেউ তার সাথে মিশত না, তাকে বোঝার চেষ্টাও করত না। কিন্তু উদ্দীপকে অপরাজিতাকে সবাই সহায়তা করে। আলোচ্য গল্পের সুভাও যদি অপরাজিতা মতো সহায়তা পেত তাহলে অবশ্যই তার জীবনটা অন্য রকম হতে পারত। গল্পের শেষে সুভাকে আমরা যেমনভাবে বেদনায় জর্জরিত হতে দেখি তা হয়তো ঘটত না। পরিবারের সবার সহযোগিতায় সে হয়তো সুন্দর সময় কাটাতে পারত। নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ গড়ার চেষ্টায় ব্রতী হতো। তাই বলা যায়, চৌধুরী পরিবারের মতো পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা পেলে সুভা গল্পের পরিণতি অন্যরকম হতো মন্তব্যটি যথাযথ।