বিবিসি ও রয়টার্স
কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার হাজার হাজার লোক রাজধানী হাভানা ও সান্তিয়াগোসহ বেশ কয়েকটি শহরে ‘স্বাধীনতা’ বলে স্লোগান দেয় এবং প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ কানেলের পদত্যাগ দাবি করে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে কিউবা। এর মধ্যেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের রেকর্ড বৃদ্ধি ঘটেছে। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের সংকট, নাগরিক স্বাধীনতার সংকোচন এবং মহামারি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ লোকজন প্রতিবাদে নামে। তারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় টিকার দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয়। হাভানার কেন্দ্রস্থলে এবং সমুদ্রতীরবর্তী সড়কে কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়ে ‘দিয়াজ কানেল সরে যাও’ বলে স্লোগান দেয় এবং এ সময় সরকারের সমর্থকেরাও কিউবার পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসে আর ‘ফিদেল’, ‘ফিদেল’ বলে স্লোগান দেয়।
হাভানার প্রতিবাদস্থলে সম্ভাব্য সাদা পোশাকের কর্মকর্তাদের সহায়তায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে দুই ডজনের মতো প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করতে দেখেছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক। পুলিশ প্রতিবাদকারীদের দিকে পিপার স্প্রে ছিটানোর পাশাপাশি তাদের আঘাতও করেছে। হাভানার এক এলাকায় পুলিশের একটি খালি গাড়ি উলটে ফেলে সেটির দিকে পাথর নিক্ষেপ করে ক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীরা। এ সময় রাজধানী হাভানা জুড়ে পেছনে মেশিনগান বসানো স্পেশাল ফোর্সের জিপগুলোকে টহল দিতে দেখা যায়। প্রতিবাদকারীরা বাসায় চলে যাওয়ার অনেকক্ষণ পর পর্যন্ত নগরীটিতে অনেক পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে।
হাভানার ভেতর দিয়ে মিছিল নিয়ে যাওয়া প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেওয়া ৫৩ বছর বয়সি নাচের শিক্ষক মিরানডা লাজারা বলেন, ‘সত্যিই আমরা অনেক কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সিস্টেমের একটি পরিবর্তন দরকার।’ রবিবার বিকেলে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে কিউবার প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান দিয়াজ কানেল এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে কিউবার বিরুদ্ধ বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা আরো কঠোর করেছে।
দিয়াজ কানেল বলেছেন, প্রতিবাদকারীদের মধ্যে অনেকেই আন্তরিক ছিলেন, কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণায় এবং মাঠে থাকা ‘ভাড়াটে ব্যক্তিদের’ দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। এরপর আর ‘উসকানি’ দেওয়া হলে তা সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করে সমর্থকদের এসব ‘উসকানিদাতার’ প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম গোলার্ধ সম্পর্কিত ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি চাং বলেছেন, ‘কিউবায় লড়াইয়ের ডাক গভীর উদ্বেগজনক। কিউবান জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকারের পক্ষে আছি আমরা।’