সদয় হোন
বর্তমান শতাব্দীকে বলা হয় মানবাধিকারের স্বর্ণযুগ। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এমন সময়েও দেশের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ প্রায় সব ধরনের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এমনকি তারা সামাজিকভাবেও চরম বৈষম্যের শিকার। জন্মের পর থেকেই ওরা সমাজের জন্য অভিশাপরূপে বেড়ে ওঠে, সমাজের অন্যান্য মানুষ এদের ‘মানুষ’ বলেও মনে করে না, বরং এদের দেখলেই হাসিঠাট্টা করে। অনেক সময় তাদের চতুর্দিকে মানুষের ভিড় দেখলে মনে হয় এরা যেন বিরল কোনো প্রাণী। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কুসংস্কারের কারণে তাদের পিতামাতা ও ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়। তাদের বাসস্থান হয় সামাজিক মূল্যবোধবিহীন নানা ধরনের ক্যাম্পে। জন্ম থেকেই সমাজের চক্ষুশূল হয়ে থাকতে থাকতে শিক্ষা, বিনোদন ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হয়ে অযত্ন ও অবহেলায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তাদের দেখলে খিটখিটে প্রকৃতির মনে হয়। চাকরি ও সাধারণ কর্মসংস্থান থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তারা ভিক্ষাবৃত্তি, চুরি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সাধারণ জীবনযাপন ও সহাবস্থানে ব্যর্থ হয়ে তারা দিনদিন মূল্যবোধহীন এক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে। তবে আনন্দের বিষয়, বর্তমান সরকার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটাধিকার, সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকারসহ বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু উদ্যোগ নিয়েই তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত হওয়া সব অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না; তাদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে, তাদের স্বাভাবিক ও সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি নিজেদের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে তাদের মানসিক পরিবর্তনেও কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আওতায় তাদের সাংবিধানিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। তাদের সব ধরনের সামাজিক ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে এবং সব ধরনের শিক্ষার সুবিধা প্রদানপূর্বক তাদের জন্য বিশেষ কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে তারা আমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আস্তে আস্তে পথচলা শুরু করতে পারবে এবং নিজেদের উন্নয়নে নিজেরাই ভূমিকা রাখতে পারবে।
ইস্রাফিল রনি
আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়