গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার

দুর্ভোগ চরমে

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

গঙ্গাচড়ায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩ হাজার পরিবার। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় বিনবিনা এলাকায় একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদী চরাঞ্চলসহ তিস্তা অববাহিকার প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। গজঘণ্টা ইউনিয়নের মাঝেরচর, গাউছিয়া বাজার, মহিষাশুর, জয়দেব এলাকার ২০০, মর্নেয়া ইউনিয়নের আলালচর, নিলারপাড়া, ভাঙ্গাগড়া, তালপট্টি এলাকার  ২০০  পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়েছে। তাছাড়া তিস্তা ব্যারাজের ভাটি এলাকা উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের নোহালী, চর নোহালী, বাগডোহরা, মিনার বাজার, চর বাগডোহরা এলাকায় সাড়ে ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটু জানান। কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, উত্তর চিলাখাল, মটুকপুর, বিনবিনা মাঝেরচর, সাউদপাড়া ও বাবুরটারী বাঁধেরপাড়, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, বাগেরহাট আশ্রয়ণকেন্দ্র, পূর্ব ইচলী, পশ্চিম ইচলী  এলাকায় আরো ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানি বৃদ্ধির কারণে অনেকে নিদ্রাহীন রাত যাপন করেছেন। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের ঘরে খাবার থাকলেও রান্না করতে পারছে না। পানিবন্দি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মালিকরা। স্থানীয় লোকজন বলছেন, চার দিন আগে বন্যা হয়ে যাওয়ার পর আবার সোমবার বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় ভেসে গেছে অনেকের পুকুরের মাছ। বিনবিনা এবং পূর্ব ইচলি এলাকায়  ব্যাপক ভাঙন দেখা দেওয়ায় লোকজন বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে।

মর্নেয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী আজাদ বলেন, তার ইউনিয়নে প্রায় ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কথা নিশ্চিত করে কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু বলেন, ভয়াবহ অবস্থা। চিলাখাল, সাউথপাড়া, আলেকিসামত, বিনবিনা এলাকায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, মানুষের অবস্থা খুবেই করুণ। চারিদিকে পানি আর পানি। বিনবিনা এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে তার ইউনিয়নের ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।  রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘তিস্তার বেড়িবাঁধে ভাঙনকবলিত এলকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হবে।’