খাগড়াছড়িতে বাগানেই নষ্ট হচ্ছে আম

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

বাগানে গাছে গাছে আম পেকে যাচ্ছে। পাকা আম ঝরে পড়ছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না। বাগান মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না। লকডাউনের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাহাড়ে আমের পাইকাররা না আসায় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন আম চাষিরা।  আম বাগানের মালিক বিপিন চাকমা জানান, আম পেকে যাচ্ছে। ঢাকার পাইকাররা আম নিতে চাচ্ছে না। এদিকে সারা বছর বাগানের পরিচর্যা করাসহ নানা খরচ আম বিক্রি করে দিতে হয়। আম বিক্রি না হওয়ায় কাউকেই টাকা দিতে পারছি না। আম বাগান মালিক সমিতির সভাপতি দিবাকর চাকমা জানান, লকডাউনের কারণে গাড়ি ভাড়া বেশি। বেশি ভাড়া দিয়ে আম আড়তে নিয়ে গেলে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। তিনি আরো জানান. প্রতি বছর পাহাড়ে উত্পাদিত প্রায় ২ হাজার ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়। পাহাড়ে যেসব আম হয় তার মধ্যে আছে, আম্রপালি, রামগুই, বারি-ফোর, ব্যানানা মেঙ্গো ইত্যাদি। কিন্তু এবার পাহাড়ের আমচাষিরা বড় ক্ষতির শিকার হবেন। তিনি পাহাড়ের ফলচাষিদের প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান। আমবাগান মালিক সমিতির উপদেষ্টা অনিমেষ চাকমা রিংকু জানান, এ বছর আম বাজারজাত করা নিয়ে জটিল সমস্যায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সি রাশীদ আহমেদ জানান,  লকডাউনের কারণে সাধারণ মানুষ দরকার ছাড়া বাজারে আসছে না। মানুষ বাজারে না এলে আম বিক্রি হয় না। এই কারণেই পাহাড়ে উত্পাদিত আম বাজারজাত করা যাচ্ছে না। চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। চাষিরা আমের ভালো মূল্য না পেলে আশাহত হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মর্ত্তুজ আলী জানান, আম ব্যবসায়ীদের পরিবহন নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায়  মোট তিন হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে ২৯ হাজার ১৯৬ মেট্রিক টন আম উত্পাদিত হয়েছে।