নেপালের শীর্ষ আদালতে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। তাকে সরিয়ে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবাকে প্রধানমন্ত্রী করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দুই দিনের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে পার্লামেন্টও পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি চোলেন্দ্র সামসের রানার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গত সপ্তাহেই বিরোধীদের আবেদনের শুনানি শেষ করেন। অবশেষে গতকাল সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতিরা। আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল ওলির সরকার। সোমবার ভেঙে দেওয়া পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের পুনর্বহালের নির্দেশ দিল আদালত।
আস্থা ভোটের পর গত ২২ মে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ মেনে পার্লামেন্টের ২৭৫ সদস্যের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারি। সেই সঙ্গে আগামী ১২ এবং ১৯ নভেম্বর অন্তর্বর্তী নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারপরই শীর্ষ আদালতে ৩০টি হলফনামা জমা পড়ে। এর মধ্যে একটি হলফনামা দায়ের করেছে নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।
পাঁচ মাস আগে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল। গত ২০ ডিসেম্বর একইভাবে ওলির সুপারিশে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বতী নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিলেন বিদ্যাদেবী। দেউবাকে প্রধানমন্ত্রী করতে চেয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে ১৪৯ জন এমপির একটি পিটিশন পাঠানো হয়েছিল। সেখানে নেপালি কংগ্রেসের নেতা দেউবাকেই সমর্থন করেছিলেন অধিকাংশ এমপি। সেই পিটিশন খারিজ করে ওলিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালাতে নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এমপিরা।