হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অকেজো ১২টি উড়োজাহাজ এখন বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘গলার কাঁটা’য় পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্গো ভিলেজের সামনে ও রানওয়েতে ফেলে রাখা এসব উড়োজাহাজের মালিকানা প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে, কিন্তু উড়োজাহাজগুলো বন্দর এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়নি। সিভিল অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। উড়োজাহাজগুলো কার্গো ভিলেজের সামনে ও রানওয়ে থেকে সরিয়ে উত্তর দিকে অবস্থিত বে-তে রাখা হলেও যাত্রীবাহী উড়োজাহাজগুলোর পার্কিংয়ের জায়গা দিতে সংকটে পড়তে হচ্ছে। বিমানবন্দরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আমদানি-রপ্তানি পণ্য ওঠানামায় কার্গো বিমানগুলোর জায়গা দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে সিভিল অ্যাভিয়েশনকে। এছাড়া বর্তমানে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের জন্য বিমানবন্দরের বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ কাজেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে এখন সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো আগামী মাসে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিলামে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেলে কেজি দরে বিক্রি করা হবে। জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আটটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, জিএমজি ও আভিয়ানার একটি করে উড়োজাহাজ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। এতে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকাটি কার্যত উড়োজাহাজের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্লেনগুলো সেখান থেকে সরিয়ে না নেয় এবং ইউনাইটেড, রিজেন্ট এবং জিএমজির কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) বিভিন্ন ফি বাবদ পাওনা ৭৫০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে, সে ক্ষেত্রে সিভিল অ্যাভিয়েশনের রুল অনুযায়ী প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তোলা হবে। এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ কয়েকবার প্লেন রাখার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে অথবা প্লেন সরিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে’ বলে সতর্কও করা হয়েছে। তারা কোনো সাড়া দেয়নি। বর্তমানে প্লেনগুলোর ডি-রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে বেবিচকের কমিটি যে কর্মপদ্ধতি সুপারিশ করেছে, সে অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, এই এয়ারলাইনসগুলো এক থেকে আট বছর ধরে চালু নেই। পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে ফেললে কার্গো ভিলেজে আরো চার-পাঁচটি কার্গো বিমানের জন্য জায়গা থাকবে। এতে আয় বাড়বে। তিনি বলেন, ইউনাইটেডের কাছে ১৯০ কোটি টাকা, জিএমজির কাছে ৩৬০ কোটি টাকা এবং রিজেন্টের কাছে ২০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, ‘ফি পরিশোধ করে উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নিতে ক্যাব বিভিন্নভাবে চিঠি দিলেও বিমান সংস্থাগুলোর সাড়া মেলেনি। এ কারণেই আমরা বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জানা গেছে, জিএমজি ২০১২ সালে তাদের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে তাদের এমডি-৮২ উড়োজাহাজটি কার্গো ভিলেজে পড়ে আছে। ইউনাইটেড এয়ার কোনো ঘোষণা ছাড়াই প্রথম ফ্লাইট চালুর ১০ বছর পর ২০১৬ সালে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। রিজেন্ট এয়ার প্রথম চালু হয়েছিল ২০১০ সালে। মহামারির কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ায় গত বছর তারা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এখন পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট চালু হয়নি। এ ছাড়া আভিয়ানা ২০০৮ সালে ফ্লাইট চালু করার কয়েক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।