ডা. নাজনীন হত্যা

ভাগনে আমিনুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল আপিল বিভাগ

রাজধানীতে ল্যাব এইডের চিকিত্সক ছিলেন ডা. নাজনীন আক্তার। তার স্বামী আসারুজ্জামান আপন ভাগনে আমিনুলকে ঢাকায় আনেন লেখাপড়া করানোর জন্য। ভর্তি করেন মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে। কিন্তু ২০০৫ সালের ৭ মার্চ হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর নাজনীনকে কুপিয়ে হত্যা করে সেই ভাগনে আমিনুল। পারুল নামের গৃহকর্মী তা দেখে ফেলায় তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে সে। ডাবল মার্ডারের এ মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত্ দেবনাথ এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত কৌঁসুলি এ বি এম বায়েজীদ শুনানি করেন।

শুনানিতে বিশ্বজিত্ দেবনাথ বলেন, একজন মধ্যবয়স্কা নারী ও তার গৃহকর্মীকে যেভাবে কুপিয়েছে তাতে আসামির নিষ্ঠুরতাই প্রকাশ পেয়েছে এ মামলায়। গৃহকর্মীকে ১৮টি এবং নারী চিকিত্সককে সাতটি কোপ দিয়েছে আসামি। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখার আবেদন জানাচ্ছি।

এ বি এম বায়েজীদ বলেন, ‘আসামির বয়স কম। বয়স বিবেচনায় সাজা হ্রাসের সিদ্ধান্ত আদালত নিতে পারেন। সুবিচার ও মানবিকতার স্বার্থে আপনারা (বিচারপতি) যেটা ভালো মনে করবেন সেই সিদ্ধান্ত নেন। কারণ আসামি যদি বেরিয়ে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে?’

এ পর্যায়ে আপিল বিভাগের বিচারপতিরা বলেন, ‘কোনটিকে মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বলছেন। যিনি এ মামলায় নিহতের এক জনকে ১৮টি কোপ দিয়েছেন। আরেক জনকে দিয়েছেন সাতটি। এমনভাবে আক্রমণ করেছেন ঐ চিকিত্সক কোনো ধরনের প্রতিরোধ করতেই পারেননি।’ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসামির জেল আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।

২০০৫ সালের ৭ মার্চ ডা. নাজনীন ও গৃহকর্মী পারুলকে কুপিয়ে হত্যা করে আমিনুল। এরপর বাসায় তালা দিয়ে বগুড়া চলে যায়। নিয়ে যায় বাসার মোবাইল। বগুড়া থেকে পালিয়ে ফরিদপুরের চর মাধবদিয়ায় গিয়ে শরিফুল নাম ধারণ করে ৫০ টাকা মজুরির ভিত্তিতে এক বাড়িতে কাজ নেয়। এভাবে আত্মগোপনে থাকাবস্থায়ই ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় সে। সেখানে আসামি দাবি করে, ডা. নাজনীনকে সে মায়ের মতো ভালোবাসত। কিন্তু ঠিকভাবে খেতে না দেওয়ায় এবং মারধর করায় সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই মামলায় ২০০৮ সালের ২৯ মে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ আমিনুলকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মোসলেম উদ্দিনের জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক বলেছেন, ‘এই সাক্ষী একটা সত্যবাণী আদালতে পৌঁছে দিতে এসেছেন। যিনি আসামিকে ঘটনার দিন রাতে ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছেন।’ ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট ফাঁসির এ রায় বহাল রাখে। এর বিরুদ্ধে জেল আপিল করে সে। গতকাল এই জেল আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়।