যুবককে ৩০ বেত্রাঘাত ও জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হলো

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পল্লিতে পরকীয়ার অভিযোগে সালিশি বিচারে সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবককে ৩০ বেত্রাঘাত এবং কোমরে রশি ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে আইনবহির্ভূত ও ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ইউপি মেম্বর নওয়াব আলীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, মিরপুরের মালিহাদ গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে কৃষিশ্রমিক যুবক সাইফুলের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে মালিহাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর নওয়াব আলী তার বাড়ির আঙ্গিনায় সালিশ বৈঠক ডাকেন। সালিশে সাইফুলকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩০টি বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন ঐ ইউপি মেম্বরসহ অন্যরা। পরে সালিশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাইফুলকে একনাগাড়ে ৩০টি বেত্রাঘাত করা হয়।  উপর্যুপরি বেত্রাঘাতে সাইফুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে কোমরে রশি বেঁধে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুরো গ্রাম ঘোরানো হয়। এছাড়া সাইফুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ঐ গৃহবধূ রাজি না হওয়ায় তালাকনামায় সই করিয়ে তাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, সালিশ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। বেত্রাঘাতের ঘটনাটি তিনি পরে জেনেছেন।

মিরপুর থানার ওসি তদন্ত শুভ্র কান্তি দাস বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইউপি মেম্বর নওয়াবসহ তিন জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী  সাইফুল মামলা করলে জড়িতদের ঐ মামলায় আসামি করা হবে।