দেশের পথে-প্রান্তরে ভ্রমণ যার নেশা

ফারহান ইশরাক

হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে জানতে হলে ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তির এই যুগে তরুণ প্রজন্ম যেন ঘর থেকে বের  হতেই চায় না। কিন্তু সময় এখন মুক্ত বিহঙ্গের মতো ছুটে চলার। জাতি হিসেবে যদি নিজের দেশ ও জাতিসত্তা সম্পর্কেই না জানা হয়, তবে বাংলার হাজার বছরের ইতিহাস একদিন বিলীন হয়ে যাবে, যেভাবে বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত নদী— আর এই ভাবনা থেকেই সৌন্দর্যের স্বরূপ খুঁজতে তিনি বেরিয়ে পড়েন দেশ ভ্রমণে। একে একে ঘুরে বেড়ান অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের সবগুলো জেলা। ভ্রমণপ্রেমী রিফাত জাহান শাওনের গল্পটা এমনই। দীর্ঘ এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল নেত্রকোণার বিরিশিরি ভ্রমণের মধ্যদিয়ে। সেখান থেকে ফিরে এসেই তার কাছে মনে হয়েছিল বাংলাদেশ অনেক বেশি সুন্দর, ঘুরে দেখা দরকার পুরোটা। এরপর থেকেই শুরু হয় একের পর এক জেলা ঘুরে দেখার পালা। কখনো বাসে, কখনো ট্রেনে, কখনো-বা লঞ্চে, আবার কখনো বন্ধুর মোটরবাইকে চেপে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

দেশের সব জেলায় উড়িয়েছেন বাংলাদেশের পতাকা। যাত্রাপথে শাওনের জ্ঞানের ভাণ্ডারও ভারী হয়েছে বহুগুণ। পরিশ্রম, মেধা আর তীব্র মনোবল নিয়েই ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রত্যেকটি অঞ্চলে। শাওন মনে করেন, পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের অর্জিত জ্ঞান আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমগ্র বাংলাদেশ ভ্রমণ শেষে শাওন তার এই প্রাপ্তি উত্সর্গ করেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আত্মোত্সর্গকারী শহীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। ৬৪ জেলা ভ্রমণের এই দীর্ঘযাত্রার শেষদিনে শাওনের বয়স ছিল ১৯ বছর ৯ মাস ২৩ দিন। এখনো পর্যন্ত শাওনই সবচেয়ে কম বয়সী ট্রাভেলার, যিনি পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন। সম্পূর্ণ যাত্রায় তার সময় লেগেছে ১ বছর ১১ মাস। রিফাত জাহান শাওন বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন বিশ্বের প্রতিটি দেশ ভ্রমণ করা। তাই সর্বপ্রথম নিজের মাতৃভূমির প্রতিটি জেলা বিচরণ করে বিশ্বভ্রমণের জন্য আমি নিজেকে প্রস্তুত করেছি।’ শাওন মনে করেন, পুরো পৃথিবী ভ্রমণের আগে নিজ দেশের পুরোটা দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।