রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় :নিজ গৃহে পরবাসী

বাঙালি জাতির দীর্ঘকালের আশা-আকাঙ্ক্ষার সোনালি ফসল রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। পাকিস্তান আমলে যখন রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ ঘোষণার ষড়যন্ত্র হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু বলিষ্ঠ কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের পক্ষে তার অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মর্যাদায় ভূষিত করেন। কাজেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ও স্বাধীন বাংলাদেশ আজ অবিচ্ছিন্ন।

রবীন্দ্রনাথের মহান স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম। ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ড. মযহারুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথের নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রার্থনা করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাবেন এই ভরসায় তিনি শাহজাদপুরের অতি সন্নিকটে সাতবাড়িয়া নামক স্থানে ‘টেগর পিস ইউনিভার্সিটি’র জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় তখন ছিল বিএনপি। রবীন্দ্রনাথের নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হোক, বিএনপি সরকার তা চায়নি। সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ‘টেগর পিস ইউনিভার্সিটি’ আলোর মুখ দেখতে পায়নি।

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের কাছে তখন জাতির নানা রকম প্রত্যাশা। আমাদের প্রত্যাশা রবীন্দ্রনাথের নামে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম, প্রবন্ধের শিরোনাম ‘সাজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’। রবীন্দ্রনাথ ‘সাজাদপুর’ বানানটি এভাবেই লিখতেন। আমার লেখা ‘সাজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক লেখাটি ২৪ মার্চ, ২০০৯ সালে দৈনিক ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুধিমহলে আলোড়ন দেখা দেয়। সরকারের উচ্চমহলে বিষয়টি আলোচিত হতে থাকে। শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে শুরু হয় মানববন্ধন। একই রকম দাবি ও কর্মসূচি পালিত হতে থাকে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ও নওগাঁর পতিসর অঞ্চলে। এসব দাবি ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য একটি স্থান নির্বাচন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। স্থান নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তত্কালীন ইউজিসির চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন কমিটি যথারীতি শাহজাদপুর, শিলাইদহ ও পতিসর পরিদর্শন শেষে সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করেন। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা এবং রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব জায়গাজমির বিষয় বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ১৪২২ সনের ২৫ বৈশাখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। অন্যদিকে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন শাহজাদপুরবাসীর জন্য অতিশয় গৌরব ও আনন্দের বিষয়। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গরত্ন শেখ হাসিনার কাছে শাহজাদপুরবাসীর কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে অনেক লেখালেখি করেছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ৪০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার আলোকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা আমার লেখায় স্থান পেয়েছে। আমার লেখাগুলো অনেক আগেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটির শিরোনাম ‘শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স এখন পাঁচ (৫) বছরের অধিক। বিশ্ববিদ্যালয়টির দৃশ্যমান উন্নয়ন কিছু ঘটেনি। আমরা যারা শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা দেখে আমাদের উদ্বেগ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। শাহজাদপুর শহরের কয়েকটি কলেজের কাছ থেকে ভবন ধার নিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠন চালানো হচ্ছে, এটি সাময়িক। এই ব্যবস্থা বছরের পর বছর চলতে পারে না। আমার জানামতে, এখন পর্যন্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের কাজই সম্পন্ন হয়নি, এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব ভবন নির্মাণের প্রশ্নই ওঠে না। যে মন্থর গতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে, আমার আশঙ্কা, আগামী ৮-১০ বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রস্তাবিত নিজস্ব ক্যাম্পাসে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবে বলে মনে হয় না। আমার এ কথা বলার পেছনে কিছু তথ্য আছে, বিষয়টি খুলে বলছি।

শাহজাদপুর শহর থেকে দুই-তিন মাইল দক্ষিণে বাঘাবাড়ী দুগ্ধখামারের পশ্চিমে ঠাকুর জমিদারির যে বিস্তীর্ণ এলাকায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে, সেই অঞ্চলকে আমরা ‘পাথার’ বলে চিহ্নিত করে থাকি। এগুলো গরুর ‘বাথান’ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। খুবই নিচু এলাকা। বন্যার সময় এলাকাটি ১০-১৫ ফুট পানির নিচে চলে যায়। এখন পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়নি, তারপর শুরু হবে মাটি ফেলে ভরাটের কাজ। মাটি আনতে হবে অনেক দূরের নদী থেকে। ড্রেজার ছাড়া মাটি ভরাটের কোনো পথ নেই। এসব কাজের জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে, এটি বাস্তব সত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির চার বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের অতিদ্রুত নিজস্ব ক্যাম্পাস দিতে না পারলে তাদের মধ্যে হতাশা এবং হীনম্মন্যতা কাজ করবে। এই সমস্যার আশু সমাধানকল্পে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিকল্প কিছু ভাবতেই হবে।

রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরের কথা যখন আমরা বলি, তখন আমরা মূলত রবীন্দ্রনাথের কাচারিবাড়ির কথাই বুঝে থাকি। এই বাড়িতে বসেই রবীন্দ্রনাথ জমিদারি কাজের সঙ্গে লেখালেখি এবং নানা রকম সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘ছিন্নপত্র’তে রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেছেন, শাহজাদপুরের কাচারিবাড়ি তার সবচেয়ে প্রিয় স্থান। এই বাড়িতে এলে তার যেমন ভালো লাগত, অন্য কোথাও তার তেমন ভালো লাগত না। কাজেই রবীন্দ্রনাথের এত ভালো লাগার কাচারিবাড়িকে বাইরে রেখে শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন অর্থহীন। আমারা ভেবেছিলাম, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরটি রবীন্দ্রনাথের কাচারিবাড়িতেই স্থাপিত হবে। কিন্তু তেমনটি হয়নি। তবে রবীন্দ্র কাচারিবাড়িতে ভিত্তিপ্রস্তরটি প্রতিস্থাপনের সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় হবে আর রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব বাড়িটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে থাকবে না, এমনটি হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি রক্ষার্থে পশ্চিমবঙ্গে দুটো বিশ্ববিদ্যালয় আছে—১. রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ২. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রনাথের জোড়াসাঁকোর বাড়িটিকে কেন্দ্র করে। জোড়াসাঁকো বাড়িটি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় স্মৃতিসামগ্রী রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ই রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। অন্যদিকে বোলপুরের শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় স্মৃতিসামগ্রী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। শুধু ব্যতিক্রম দেখা দিয়েছে শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে আর রবীন্দ্রনাথের অতিপ্রিয় বাসগৃহ কাচারিবাড়ি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, এমনটি হতে পারে না। আমরা জানি, রবীন্দ্র কাচারিবাড়িটি যখন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, তখন সরকার কাচারিবাড়িটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করেছে এবং বর্তমানে রবীন্দ্র কাচারিবাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, এটি প্রশংসনীয়। তবে শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর রবীন্দ্রনাথের কাচারিবাড়িটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা বাঞ্ছনীয়। এ ব্যাপারে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আমার জানামতে, বর্তমানে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িটি ১৪ বিঘা জমি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিছু জমি দখলের বাইরে চলে গেছে। বর্তমান সময়ে শহর এলাকায় ১৪ বিঘা জমি কম কথা নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে গিয়ে ফসলি জমির যেন অপচয় না হয়, সে ব্যাপারে শেখ হাসিনা সরকারের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে উপজেলা পর্যায়ে যদি কেউ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে চায়, তাকে ছয় বিঘার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। সেই বিচারে রবীন্দ্র কাচারিবাড়ির প্রতি ইঞ্চি মাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে লাগানো প্রয়োজন। ১৪ বিঘা জমি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কত সুন্দরভাবে কাজে লাগাবে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন দক্ষ আর্কিটেক্ট তা ঠিক করে দিতে পারবেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করছি না। আমরা চাইব আন্তর্জাতিক মানের একজন আর্কিটেক্ট প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে রবীন্দ্র কাচারিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের নামে একটি সুদর্শন রবীন্দ্রভবন নির্মিত হোক। সেই ভবনে থাকবে রবীন্দ্র মিউজিয়াম, বিশাল একটি অডিটোরিয়াম, থাকবে একটি প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউট ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের আমলে তৈরি পুরাতন ভবন এবং সেখানে সংরক্ষিত রবীন্দ্রনাথের ব্যবহূত জিনিসপত্র অক্ষত রেখেই রবীন্দ্রভবনটি নির্মিত হতে হবে। প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের মধ্যে থাকবে ইতিহাস, বাংলাদেশ স্টাডিজ, ফোকলোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রবীন্দ্র স্মৃতিসামগ্রী এবং রবীন্দ্র কুঠিবাড়িটিকে যেভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে, সেই দায়িত্ব পালন করবে প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউট। অর্থাত্, কাচারিবাড়ির রবীন্দ্রভবনটি শেষ পর্যন্ত প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউট থেকে লেখাপড়া শেষ করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে যারা বের হবে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশে-বিদেশে চাকরির বাজারে তারা অধিক গুরুত্ব পাবে।

রবীন্দ্র কাচারিবাড়িতে রবীন্দ্রভবনের নির্মাণকাজ শুরু করলে আমার বিশ্বাস দুই বছরের মধ্যে তা শেষ হয়ে যাবে। তখন এই ভবনেই শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠন ও প্রশাসনিক কাজ চালানো সম্ভব হবে। যত দিন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে না উঠবে, তত দিন কাচারিবাড়ির রবীন্দ্রভবনেই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকবে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের আর নিজ গৃহে পরবাসী জীবন যাপন করতে হবে না। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের চাওয়ার ওপর। বাইরে থেকে কেউ রবীন্দ্রনাথের কাচারিবাড়িটি উপহার হিসেবে তাদের হাতে তুলে দেবে না, বরং কতিপয় স্বার্থবাদী মহল এর বিরোধিতা করবে। কাজেই ছাত্র-শিক্ষকদের যৌথ আন্দোলন ছাড়া বিষয়টি অর্জিত হবে বলে মনে হয় না। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস যেখানে নির্মিত হবে, রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি ক্যাম্পাস থেকে সেখানে গাড়িতে যাতায়াতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগবে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ক্যাম্পাস থাকতেই পারে। রবীন্দ্র কাচারিবাড়িতে রবীন্দ্রভবন নির্মাণের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজ গৃহে পরবাস তথা বাস্তুহারা জীবনের দ্রুত অবসান ঘটুক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

n লেখক :সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়