মৌসুমি ব্যবসায়ীদের উত্পাতে উত্কণ্ঠিত খামারিরা
এনামুল হক, খুলনা অফিস
কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে খুলনা বিভাগে ৮ লক্ষাধিক পশু লালন পালন করেছে খামারিরা। তবে মহামারি করোনার নজিরবিহীন বিস্তারে বিপুল পরিমাণ পশু বিক্রি ও ন্যায্য দাম নিয়ে তারা এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগের ৫৯টি উপজেলায় খামারিরা ৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২টি গবাদি পশু লালন পালন (মোটাতাজা) করেছে। বিভাগে এবার কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৭ লাখ ১১ হাজার ৯৬৭টি পশুর। প্রতিটি গরুর মূল্য ৮০ হাজার টাকা হিসেবে উল্লিখিত পশুর মূল্য ৬ হাজার কোটি টাকা। গ্রামীণ এ অর্থনীতি নির্ভর করছে কোরবানির পশুর হাট বসার ওপর। সূত্রমতে, খুলনার ২৮টি, বাগেরহাটে ২৭টি, সাতক্ষীরার ১৫টি, যশোরের ১০টি, ঝিনাইদহের ২৪টি, মাগুরার ১৪টি, নড়াইলের ৯টি, কুষ্টিয়ার ১১টি, চুয়াডাঙ্গায় ছয়টি ও মেহেরপুরের ছয়টি হাটে কোরবানির জন্য এসব পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে তোলা হবে। বিভাগের মধ্যে খুলনা মহানগরীসহ জেলার ডুমুরিয়া, ফুলতলা, রূপসা, দিঘলিয়া, তেরখাদা, কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপজেলার ৫ হাজার ২১২ জন খামারি বছর জুড়ে লালন পালন করেছেন ৪৭ হাজার ৭৮৯টি পশু। এসব পশুর মধ্যে রয়েছে ২৮ হাজার ৫৬৮টি ষাঁড়, ২ হাজার ৩১৯টি বলদ, ২ হাজার ৪০৪টি গাভি, ৯টি মহিষ এবং ১২ হাজার ২৩৯টি ছাগল ও ২ হাজার ২৫০টি ভেড়া।
ডুমুরিয়া উপজেলার বামনদিয়া গ্রামের খামারি আফসার শেখ বলেন, শেষ পর্যন্ত পশুর হাট সঠিকভাবে বসবে কি না, কোরবানির সংখ্যা কমে যায় কি না, ন্যায্য দাম পাব কি না সেই আশঙ্কায় আমার মতো খামারিদের দিন কাটছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ১৫টি স্থায়ী হাট ইজারাদাররা চালু করার জন্য বারবার সুপারিশ করছে। প্রশাসন রাজি নয়। সীমান্তবর্তী জেলায় করোনার সংক্রমণের হার বেড়েছে। চোরাইপথে ভারত থেকে যাতে গরু আসতে না পারে সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে। খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. সুখেন্দু শেখর গাইন বলেন, খুলনা বিভাগে হাট বসার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বুধবার (১৪ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ের পর সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তবে তিনি আশাবাদী যে এ অঞ্চলে কোরবানির পশুর হাট বসবে।