পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের কারণে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে পদ্মার তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। আকস্মিক এই ভাঙনে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায় ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও ১৫০ মিটার এলাকা। আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ভাঙনকবলিত এলাকার ঘরবাড়ি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই লঞ্চ ও ফেরিঘাট। গত বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনের ক্ষত কাটতে না কাটতেই আবার ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে পদ্মাপাড়ের হাজার হাজার পরিবার। তবে লঞ্চ ও ফেরিঘাটের ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ।
জানা যায়, গোয়ালন্দে গত এক দশকে নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। এসব পরিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্যের জমি বছর চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে কোনো মতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতিদিন একটু একটু করে ভাঙনে পদ্মায় হারিয়ে যাচ্ছে গোয়ালন্দের মানচিত্র। নিঃস্ব হচ্ছে এই এলাকার মানুষ। শুধু গত বছরের ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও কার্যত কিছুই হয়নি।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার আগ্রাসী ভাঙনে বসতবাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাটসংলগ্ন মজিদ শেখের পাড়া এলাকার ১০টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে আর্তনাদ করছে। ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত নদীপারের শতাধিক বাসিন্দা। কেউ ঘরের খুঁটি খুলছে, কেউ অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে ঘরের চাল। এ সময় দীর্ঘদিনেও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবস্থাপনার কারণেই আধা ঘণ্টার ভাঙনে ১০-১২টি বাড়ি নিমেষেই পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। আরো শতাধিক স্থাপনা হুমকির মুখে। লঞ্চঘাট এলাকায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ মজিদ শেখের পাড়া এলাকায় কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে লঞ্চঘাট, ফেরিঘাটসহ পুরো এলাকা।
গতকাল ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে আসেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা প্রশাসক দিলশাদ বেগম, গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মোস্তফা মুন্সি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক খান মামুন। জেলা প্রশাসক দিলশাদ বেগম বলেন, লঞ্চঘাট ও ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মাঝামাঝি তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কিছু ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং অন্যরা বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করা হবে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।