বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া মুকুল রায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আটটি কমিটির পদ ছাড়ল বিজেপি। এ নিয়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের নালিশ জানাতে গতকাল মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা যান রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের কাছে।
বিজেপির অভিযোগ, বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় বিরোধী দলের এমএলএ-দের মধ্যে থেকে। মুকুল রায় বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু বিধানসভায় তিনি এখনো বিজেপির বিধায়ক হিসেবে পরিচিত। এরই সুযোগ নিয়ে মুকুল রায়কে পিএসির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। নিয়মমতো এক্ষেত্রে বিরোধী দল অর্থাত্ বিজেপির কোনো এমএলএ-কে করা হবে। এটা নিয়ে বিজেপির মতামত নেওয়া উচিত ছিল। তা না করে একতরফা মুকুল রায়কে ঐ পদ দেওয়া হয়েছে।
এর প্রতিবাদে গতকাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান ব্যানার্জির কাছে ঐ আট কমিটির পদে পদত্যাগপত্র বিজেপির এমএলএ’রা জমা দেন। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ?রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের প্রতিনিধিকে পিএসি চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হয়। সেই নিয়ম মানা হয়নি। তাই আমরা ঠিক করেছি বিধানসভার কোনো কমিটির পদে থাকব না।
এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি সৌগত রায় বলেন, ?নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার। এক্ষেত্রে রাজ্যপালের কিছু করার নেই। বিজেপির এমএলএ’দের ছয় জন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ এবং দুই জন হজ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিভিন্ন কমিটির ৪১ জন চেয়ারম্যান রয়েছেন। তাদের আগামী শুক্রবার বৈঠকে ডেকেছেন বিধানসভার স্পিকার। বিজেপির পক্ষ থেকে সেখানে কেউ থাকবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে ছয় জনের নাম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়ে দেন, মুকুল রায় যেহেতু বিজেপিরই বিধায়ক, তাই তাকেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হবে। গত সপ্তাহে বিধানসভা অধিবেশন চলাকালে তা কার্যকরও করা হয়।