রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল আবারও বেড়েছে। এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ৭ জন, করোনা পজিটিভ থেকে নেগেটিভ ৪ জন এবং করোনার উপসর্গে ১৪ জন মারা যান। রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে জুলাই মাসের ১৪ দিনে রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ২৫৫ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী মারা যান ১৪ জুলাই ২৫ জন ও সবচেয়ে কম ৪ জুলাই ১২ জন। এর আগে গত জুন মাসে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গে মারা যান ৪০৫ জন।
রামেক পরিচালক জানান, নতুন মৃতদের ১২ জন রাজশাহীর (পজিটিভ ৩, উপসর্গে ৭, নেগেটিভ হওয়ার পর ২), নাটোরের ৩ (পজিটিভ থেকে নেগেটিভ ১, উপসর্গে ২) জন, নওগাঁ ২ (পজিটিভ থেকে নেগেটিভ ১, উপসর্গে ১) এবং পাবনা ৩ (পজিটিভ ১, উপসর্গে ২) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ (পজিটিভ ১ উপসর্গে ১) জন ও কুষ্টিয়ায় ১ জন। নতুন মৃত ২৫ জনের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। এদের মধ্যে ৯জনের বয়স ৬১ বছরের ওপরে, ৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং ৭ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
তিনি বলেন, আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালের ৪৫৪ বেডের বিপরীতে করোনা ও উপসর্গের রোগী ভর্তি রয়েছেন ৫০০ জন। গতকাল মঙ্গলবার ভর্তি ছিলেন ৫০৪ জন। আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১৯ জন। অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫৪ জন।
পরিচালক জানান, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৫০০ জনের মধ্যে ২৩২ জনের করোনা পজিটিভ রয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৯৪ জন। এছাড়াও চিকিৎসা নিয়ে করোনামুক্ত হওয়ার পর ফুসফুসে ইনফেকশনসহ পরবর্তী শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৪ জন।
ইত্তেফাক/এমআর