সখীপুর-সাগরদীঘি সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচ বাঁক

মামুন হায়দার, সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

সখীপুর-সাগরদীঘি সড়কের বড়চওনা বাজারসংলগ্ন মৌটার পুকুর এলাকায় মাত্র ২৫০ মিটারের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। অল্প দূরত্বেই একাধিক বাঁক থাকায় প্রতিটি বাঁকেই রয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ২০০১-২০২১ সালের মধ্যে এসব বাঁকে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪১ জন। ২০২১ সালের এ পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক নারী-পুরুষ। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

গত ১৩ জুলাই সরজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সড়কের পাঁচ বাঁকের দুর্ঘটনায় নিহত স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচিতদের নাম-পরিচয় জানা যায়। তবে দূর-দূরান্তের নিহত ও গুরুতর আহতদের সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। সর্বশেষ গত ২২ মে সখীপুর সরকারি মুজিব কলেজের সহকারী অধ্যাপক (অব.) জয়নাল আবেদীন নিজ বাড়ি আড়াইপাড়া থেকে বড়চওনা বাজারে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, নিহতের পরিবার ও অধিকাংশ আহতরা সুস্থ হয়ে প্রতি বছর এই এলাকায় এসে শিরনি করেন। তারা এই স্থানটিতে এসে স্বজন হারানোর কান্নায় ভেঙে পড়েন। বড়চওনা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিকুল হক ছমির জানান, ঐ পাঁচ বাঁকের মাঝামাঝি তার বাড়ি। মাঝেমধ্যেই মধ্যরাতে চিত্কার ও কান্নায় ঘুম ভাঙে।

উপজেলা এলজিইডির উপ-প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ বলেন, সড়কটি ১৯৮৪-৮৫ সালে উন্নয়ন করা হয়। এলজিইডি সড়কটি দেখভাল করে। সড়কের আঁকাবাঁকা অংশ সোজা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, ঐ সড়কটি সোজা করার আগে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড সেঁটে দেওয়ার জন্য জেলা পরিষদের সভায় প্রস্তাব করা হবে।