ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার ধামরাইয়ে এবার স্টেরয়েড ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে হূষ্টপুষ্ট করা হয়েছে গরু। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গৃহস্থ ও খামারিরা এ সব গরু হূষ্টপুষ্ট করেছেন। এর মধ্যে উপজেলার বহুতকূলের রুবিয়া, হাজেরা, রিপা, রৌহার মানিক, সূতিপাড়ার শিউলী বেগম, কালামপুরের কুলসুম, নওগাঁও হাটির ফজল, বাসনার মণির ও আলী হোসেন, ভাকুলিয়ার আকলিমা, ডাউটিয়ার জুুঁই, বাথুলীর শেফালীসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেসরকারি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা এসডিআইয়ের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও খামারি স্টেরয়েড ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে হূষ্টপুষ্ট করেছেন কয়েক হাজার গরু। এমন তথ্য জানালেন ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইদুর রহমান ও এসডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক। তারা বলেন, স্টেরয়েড জীবনদায়ি ওষুধ হলেও এর মারাত্মক ক্ষতিকারক দিক রয়েছে। স্টেরয়েড প্রয়োগ করা গরু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে ঐ সব গরু মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মারা যায়। আবার স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষের নানা ধরনের জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গরু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েড ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন এবং বিষয়টি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সূতিপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা দম্পতি শিউলী বেগম ও আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তারা এবছর তিনটি গরু মোটাতাজা করছেন। তারা এখন স্টেরয়েড জাতীয় কোনো ওষুধ ব্যবহার করেন না। কারণ কয়েক বছর আগে স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজা করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদের কয়েক বছর লেগেছে। স্টেরয়েড ছাড়া গরুর দামও পাওয়া যায় বেশি। তাই গরু মোটাতাজা করতে তারা স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন না। বানেশ্বরের খামারি লোকমান হোসেন জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সহযোগিতায় তিনি স্টেরয়েড ছাড়াই কোরবানির গরু মোটাতাজা করেছেন।