আগের তুলনায় কম দামে চীনা সিনোফার্মের ভ্যাকসিন কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু কত দামে কেনা হচ্ছে সেটা তিনি উল্লেখ করেননি। গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী। সভায় মোট ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃক চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম ইন্টারন্যাশনাল থেকে সবমিলিয়ে দেড় কোটি ডোজ পূর্বের চুক্তিপত্রের উল্লিখিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আগের তুলনায় কম দামে কিনছি। এ পারচেজগুলো সিলেকটিভ পারচেজ। এগুলোর সম্পর্কে বিশদ বলা সম্ভব হচ্ছে না। চীনের এ ভ্যাকসিন কত দিনের মধ্যে আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে প্রতি ডোজে ৩ হাজার টাকা খরচ করে ভ্যাক্সিন কেনা হয়েছে, এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অর্থমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, আগে সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ভ্যাক্সিন ক্রয়ের। এর মধ্যে ২০ লাখ তারা আমাদের উপহার হিসেবে দিয়েছে। যেহেতু ২০ লাখ উপহার দিয়েছে সেজন্য তারা আরো ২০ লাখ নতুন করে যোগ করে দেড় কোটি ভ্যাকসিন দিচ্ছে। তিনি জানান, নতুন করে আমরা দেড় কোটি ভ্যাকসিন পাচ্ছি আগের তুলনায় কম দামে। সভায় জানানো হয়েছে, সিনোফার্ম ভ্যাকসিন সাপ্লিমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট-১ এর আওতায় এই ভ্যাক্সিন কেনা হচ্ছে। সেই সঙ্গে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য দেড় কোটি ডোজের অতিরিক্ত ভ্যাকসিন প্রয়োজন হলে সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ক্রয় কমিটির বৈঠকে।
ক্রয় কমিটির সভায় গোপালগঞ্জে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় শাখা কারখানা স্থাপন প্রকল্পের ভেরিয়েশন প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে ভেরিয়েশন বাবদ ৩ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৬ টাকা ব্যয় হ্রাস করে ৯৯ কোটি ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬১ টাকার সংশোধিত ক্রয় চুক্তি সম্পাদনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় বগুড়া থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এছাড়া ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পে আন্তর্জাতিক কনসাল্টিং ফার্ম নিয়োগের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সভায় ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) জন্য ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড ১৭৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব, পেট্রোবাংলা কর্তৃক সুইজারল্যান্ড থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজিসহ সর্বমোট ৪৩৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।