বিদেশে রপ্তানির জন্য তৈরি পোশাকবোঝাই কনটেইনারের জট কমাতে অবশেষে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর থেকে কলম্বো রুটে কনটেইনার পরিবহন গতিশীল করতে আরো ছয়টি জাহাজ কোম্পানিকে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর ফলে গত দুই দিনে কনটেইনারের জট প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। গতকাল বুধবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কলম্বো অভিমুখী পণ্যবাহী কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ হাজার ২০১টিতে। তিন দিন আগেও কলম্বোগামী কনটেইনারের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার। চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে ২৩টি ফিডার জাহাজ চলাচল করে। ছয়টি জাহাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সংখ্যা এখন ২৯-এ উন্নীত হয়েছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কলম্বো অভিমুখী ফিডার জাহাজসমূহের কনটেইনার পরিবহনে শ্লথগতির কারণে বন্দরে ও অফডকে অতিরিক্ত কনটেইনার জমতে শুরু করে। এতে পোশাক মালিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ফিডার ভ্যাসেলে করে কনটেইনারগুলো প্রথমে কলম্বো, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার বন্দরে যায়। এর মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ কলম্বো, ৩০ ভাগ সিঙ্গাপুর এবং ৩০ ভাগ মালয়েশিয়ার ক্যালাং বন্দরমুখী হয়ে থাকে। বাকি ১০ ভাগ চীনের সাংহাই, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য বন্দরে যায়। পরে সেসব বন্দর থেকে কনটেইনারসমূহ ঐসব ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট থেকে বিভিন্ন দেশের নির্দিষ্ট গন্তব্য পোর্ট অভিমুখী মাদার ভ্যাসেলে তুলে দেওয়া হয়।
সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান থেকে কলম্বো বন্দরে ফিডার জাহাজ পৌঁছানোর পর প্রায় ২০ দিন মাদার ভ্যাসেলের অপেক্ষা করতে হয়। এই ২০ দিন অপেক্ষার জন্য প্রতিদিন ১০০ ডলার করে কলম্বো বন্দর কর্তৃপক্ষকে জাহাজ মালিকের পক্ষ থেকে চার্জ দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত চার্জ থেকে রক্ষা পেতে কলম্বোগামী জাহাজসমূহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার পরিবহন শ্লথ করে দেয় বলে সূত্রে জানা যায়। এতে বন্দরে কলম্বোগামী কনটেইনারের জট লেগে যায়।
গত ফেব্রুয়ারিতে কলম্বো বন্দরের একটি টার্মিনাল বেসরকারি কোম্পানিকে দেওয়া নিয়ে বন্দর শ্রমিকদের ধর্মঘট এবং পরবর্তী সময়ে করোনা মহামারির কারণে বন্দরের ক্রেন অপারেটরের অনুপস্থিতিজনিত সমস্যার ফলে সেখানে জাহাজ ও পণ্যজট বেড়ে যায়। এতে করে গড়ে ২০ দিন করে প্রতিটি জাহাজ থেকে শিপমেন্ট পিছিয়ে পড়ে। যার প্রভাব গত সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর পড়ে। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে দেশে ঈদের ছুটিতে গার্মেন্টসসমূহ বন্ধ থাকার প্রাক্কালে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস পণ্যের চালান বেড়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান ইত্তেফাককে জানান, ফিডার জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে কলম্বোগামী কনটেইনার পরিবহন আরো গতি পাবে। তাছাড়া ঈদের ছুটি চলাকালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যায়।