মানবজাতির জীবনবিধান কোরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় মক্কাতেই মানবজাতির জন্য প্রথম ঘর তৈরি হয়েছিল। ঐ ঘর বিশ্ববাসীদের জন্য হেদায়াত ও বরকতের উত্স। আর তাতে অনেক স্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। যেমন, মাকামে ইব্রাহিম বা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর স্থান এবং যারাই এ ঘরের মধ্যে আশ্রয় নেয় তারাই নিরাপদ। আল্লাহর উদ্দেশে এ ঘরের হজ সমাপন করা তাদের অবশ্যই কর্তব্য। যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে এবং যদি কেউ অবিশ্বাস করে অর্থাত্ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করে, তাহলে সে জেনে রাখুক আল্লাহ বিশ্বজগতের কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন।’ (৩ :৯৬-৯৭)
প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের জন্য হজের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরীসিম। এ মর্মে হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করেছে, যার মধ্যে সে অশ্লীল কথা বলেনি বা অশ্লীল কার্য করেনি, সে হজ থেকে ফিরবে সেদিনের মতো, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন’। (সহিহ বুখারি)। হজের এত ফজিলত থাকার কারণেই, প্রতিটি মুমিন হূদয়ে ইচ্ছে থাকে একবার হজ করা ও হূদয়পটে অঙ্কিত ‘কাবা’ কে স্বচোখে দেখা। ইচ্ছে থাকে সেখানে হাজির হয়ে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির) বলে ঘোষণা দেওয়া, বায়তুল্লাহ তথা ‘কাবা’ তাওয়াফ করা, হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামিন স্পর্শ করা। শুধু এগুলোই নয়, মুমিন হূদয়ে থাকে হজকেন্দ্রিক আরো নানান ব্যাকুলতা।
পৃথিবীতে প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাস থাকায় হজ করতে পারছে না লাখো মুমিন-মুসলমান। হজ করতে না পারায়, মুমিন মনের ব্যাকুলতা ও কান্না অধিকতর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের ন্যায় এ বছরও নির্দিষ্টসংখ্যক কিছু সৌভাগ্যবান মুসলমান ছাড়া কেউ পাচ্ছে না হজের সুযোগ। কারণ, যাতায়াতের পথ নিরাপদ না থাকলে ও রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা থাকলে হজ কারো ওপর ফরজ হয় না। আর বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের যোগাযোগ বন্ধ। আর হাদিসেও মহামারির সময় এক দেশ থেকে অন্য দেশে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এত কিছু জানা ও বোঝার পরও, হূদয়ে আছে ব্যাকুলতা, কাঁদছে হাজারো মুমিন। এ কান্নার প্রধান কারণ, হজে যাওয়ার ও আল্লাহর দিদার লাভ করা।
তাছাড়াও হাদিসে এসেছে, সালমান ফারিসি রা. সূত্রে আল্লাহর রসুল (স) স ষ্টার সে মমত্বের কথাই তুলে ধরে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ লাজুক ও দয়াময়। মানুষ যখন তার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়, তখন তিনি তা ব্যর্থ ও শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান।’ [সুনান তিরমিজি, হাদিস নম্বর ৩৮৬৫] তাই, আমাদের বিশ্বাস, আল্লাহ তায়ালা তার মুমিন বান্দাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন না। তাদের দোয়ার মাধ্যমেই, বিশ্বে করোনা ভাইরাসকে অপসারণ করে, হজের জন্য বিশ্ব আবার বিভিন্ন দেশের মানুষকে একত্র হওয়া ও হজ করার তওফিক দান করবেন। তাই, আমাদেরও দোয়া ও প্রার্থনা আল্লাহ তায়ালা মুমিনের কান্না থামানোর জন্য হজ চালু ও করোনা ভাইরাসকে অপসারণ করুন। আমিন।
lলেখক :ছড়াকার ও প্রাবন্ধিক