ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে নগরীতে বানান শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছে সিলেটের স্থিরচিত্র ও চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠন কাকতাড়ুয়া। সম্প্রতি রিকাবিবাজার থেকে লামাবাজার হয়ে কাজিরবাজার পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে রাস্তায় রাস্তায় রোদে পুড়ে এ কাজটি করে তারা। সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একদল তরুণপ্রাণ রংতুলি হাতে এ অভিযান চালায়। এ দোকান থেকে ও দোকান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড সবখানেই ছিল তাদের দৃপ্ত পদচারণা। যেখানেই ভুল বাংলা বানান, সেখানেই শুদ্ধি অভিযান। দোকান কিংবা প্রতিষ্ঠান মালিককে শত অনুরোধের পর একটি একটি করে পরম মমতায় বাংলা বানানগুলো শুদ্ধ করে দিয়েছে কাকতাড়ুয়ার সদস্যরা।
নগরীর মুদিদোকান থেকে শুরু করে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি অফিস, কারখানার ভুল বানানগুলো শুদ্ধ করা হয়। ভুল বাংলা বানান শুদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি কাকতাড়ুয়া, পরবর্তীতে একই ভুল কেউ যাতে না করে সে ব্যাপারেও সচেতনতা তৈরি করেছে দলটি।
২০১৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরি শেষে কাকতাড়ুয়ার ২০ জন ছেলেমেয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বানান শুদ্ধির যাত্রা শুরু করে। প্রায় প্রতিমাসেই কাকতাড়ুয়ারা সিলেট শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায়। এখন পর্যন্ত সিলেট নগরীর যে সব রাস্তায় বাংলা বানান শুদ্ধি অভিযান হয়েছে সেগুলো হলো: টিলাগড় পয়েন্ট থেকে শিবগঞ্জ পয়েন্ট, উপশহরের বিভিন্ন বস্নক ঘুরে সোবহানীঘাট; বালুচর পয়েন্ট থেকে আরামবাগ, টিবি গেইট, শাহী ইদগাহ, সাপস্নাই দিয়ে আম্বরখানা পয়েন্ট; টিবি গেইট, শাহী ইদগাহ, কাজিটুলা, উঁচাসড়ক থেকে চৌহাট্টা অভিমুখে; আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে দরগারোড, চৌহাট্টা দিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং সুবিদবাজার থেকে পাঠানটুলা।
কাকতাড়ুয়ার দল এখন পর্যন্ত মোট ৩১৫টি প্রতিষ্ঠানে বানান শুদ্ধির জন্য অনুরোধ করেছে। এর মধ্যে ২০২টি প্রতিষ্ঠানে বানান শুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। বাকিরা অচিরেই তাদের ভুল বানানগুলো শুদ্ধ করে নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে। তারা বিভিন্ন ছাপাখানা ও আঁকিয়ে প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধ করে বাংলা লেখার জন্য প্রচারণা চালিয়েছে।