কচুয়ায় পাটের আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক

কচুয়ায় পাটের আঁশ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে চাষাবাদকৃত পাট থেকে আঁশ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। কাঁচা পাট দীর্ঘদিন পানিতে ভিজিয়ে রেখে তা পচে যাওয়ার পর গাছ থেকে পাটের আঁশ সংগ্রহ করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে দেখা যায় নারী-পুরুষ মিলে রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায় বসে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কৃষকরা জানায়, পাটের দাম ভালো থাকায় এক সময় উপজেলায় প্রচুর পাটের আবাদ হতো। কিন্তু চাহিদা ও মূল্য হ্রাসের কারণে পাটের চাষাবাদ অনেক কমে যায়। তবে বর্তমানে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আবার পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা। তারা জানায়, গত বছর প্রতি মণ পাটের মূল্য ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। এ বছর প্রতি মণ পাটের মূল্য ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। চাঁদপুর গ্রামের কৃষক মফিজুল ইসলাম, কড়ইয়া গ্রামের জহির, পালাখাল গ্রামের আমির হোসেন ও কাদলা গ্রামের জমির উদ্দিন জানান, ধান ও আলু চাষের পর জমি খালি না রেখে পাট চাষ করছি। বগি পাট ও সুতি পাট এ দুই জাতের পাট এই এলাকায় বেশি চাষ হয়।

কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোফায়েল হোসেন জানান, ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে ঝুঁকছে। গত মৌসুমে কচুয়ায় ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে ৩১০ হেক্টর। পাট উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ হাজার কৃষকের মধ্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। কচুয়ায় এ মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ছয় টন পাট উত্পাদন হবে বলে আশা করছি।