সবুজপ্রেমী নারীদের সফলতা

বিভিন্ন বয়সী নারী তারা। কেউ গৃহবধূ। কেউবা গৃহিণী। আছে ছাত্র-ছাত্রীও। একেক জনের বসবাস একেক এলাকায়। কেউ কাউকে আগে সরাসরি দেখেনি। তবে পরিচয়টা ফেসবুকে। গাছ অদলবদল এবং পরিচর্যা গ্রুপ। সবাই গাছপ্রেমী। সবুজ ভালোবাসে। এই গ্রুপেই তাদের পরিচয়। কারো আছে ছাদ বাগান। কারো বেলকনি সবজিতে ভরপুর। ফুল, ফল, সবজি সবকিছুতেই তারা এগিয়ে। ঘরের কাজ সামলান। আবার বাগানও করেন। এ রকমই কিছু নারী পুরুষ সেদিন একত্রিত হন। স্থান মহাখালীস্থ রাওয়া হল। পাঁচ জানুয়ারি ২০১৯। একদল সবুজ প্রেমীদের মিলনমেলা বসে। সকলের মনে প্রত্যয়, সবুজ পৃথিবী গড়ার। নিজেদের মধ্যে এরা গাছ, বীজ অদলবদল করে। একজনের গোলাপ গাছ বেশি। অন্য আরেক জনের অর্কিড। এরা দুইজন গাছ অদলবদল করে নিতে পারেন। এমনটাই জানালেন সুলতানা পপি। গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা নাহিদ আহমেদ। শুরুতে তার সাথে ছিলো শারমিন ইভা। এডমিন, মডারেটর হিসাবে আরো আছেন সামিউন বাছির, রাতুলি রেহমান, রুমানা আক্তার, মো: টুকু, অবাক আহমেদ, আসমা আফরোজা শান্তা, মাহবুবুল মালিক, হ্লা মা চিং। ফেসবুকে কত  গ্রুপই তো আছে। গাছ অদলবদল এবং পরিচর্যা গ্রুপে ভিন্ন কিছু আছে কি? নাহিদ বলেন, অন্য সব গ্রুপে দেখবেন সব ফলোআপ পোস্ট। শুভ সকাল, শুভ রাত্রি এই ধরনের। গাছের পরিচর্যা বিষয়টা উপেক্ষিত। আমাদের গ্রুপ এখানেই অন্যদের চেয়ে আলাদা। গাছ কিনলেই হবে না। তার পরিচর্যা সঠিক না হলে গাছ মারা যাবে। পরিচর্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমরা সামনে নিয়ে আসি। গাছ, হোক সেটা ফল বা ফুল এর। পোস্টের সাথে পরিচর্যার কথাও থাকে।

রুমি। এই গ্রুপের সদস্য। তিনি জানালেন, তার  গাছের পাতা হলুদ হয়ে গিয়েছিলো। গাছের ছবি তিনি গাছ অদলবদল ও পরিচর্যা গ্রুপে পোস্ট করলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাধান পেয়ে যান। একাধিক সদস্য তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।  এ গ্রুপের সদস্যরা  একে অপরকে সহযোগিতা করে। কেউ কারো আপন নয়। নেই রক্তের সম্পর্ক। তবু সকলে যেন সকলের।

শুধু গাছপালা নয়। গাছ অদলবদল এবং পরিচর্যা গ্রুপ সমাজকল্যাণ মূলক কাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই গ্রুপের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এতিমখানায় ফলজ বৃক্ষ লাগানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো লাগানো হবে। ময়মনসিংহের চান্দের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইছুনিয়া মোসলেম উদ্দিন বিদ্যালয়ের দুইশত পঞ্চাশজন ছাত্র-ছাত্রীর স্কুল ড্রেস, জুতা কিনে দেয় এই গ্রুপ। জানালেন নাহিদ আহমেদ। গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ চালু করা হবে। কোন গাছের কি সমস্যা হয়। সমাধানই বা কি? জানতে চান অনেকেই। সে কারণে গাছের সেবা নামে বই বের করা হবে। এমনটাই জানালেন নাহিদ আহমেদ।

গাছের ছবি, ফুলের ছবি তুলে পোস্ট দিতে হবে। লাইক, কমেন্ট সংখ্যা এবং বিচারক কতৃক সেরা ছবি নির্বাচন হয়। হাজার হাজার ছবি। বিচারকরা হিমশিম খান। সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার ও গাছপালা, প্রকৃতির পেইন্টিং। এঁকেছেন আসমা আফরোজা শান্তা। তিনিও এই গ্রুপের সদস্য। টাকা-পয়সার কোনো ব্যাপার নেই। যে যাই করেন সবই বিনে পয়সায়। শুধু ভালোবেসে। সবুজের জন্য।