একদিকে ঈদুল আজহা, অন্যদিকে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। এমন অবস্থায় সুষ্ঠুভাবে ঈদ পালনের উপায় কী—জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। তাদের মন্তব্য তুলে ধরা হলো
দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনেকেই যে উদাসীন এ কথা সত্য। গত ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাইয়ের ১৪ দিনের লকডাউন শেষ হয়েছে। ফের ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা। আমরা মনে করি, প্রত্যেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে যার যার কর্ম করে যাবেন। এতে করে সবার কাজকর্ম সুষ্ঠু ও সার্থকভাবে পালন করা সম্ভব হবে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
মিরপুর-১, ঢাকা
করোনাকালীন পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপনের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম না হলেও বর্তমান পরিস্থিতি পূর্বাপেক্ষা অনেক বেশি ভয়াবহ। ঈদ উত্সব উপলক্ষ্যে লকডাউন শিথিল হলেও নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে আমাদের সামান্যতম অবহেলা শনাক্ত ও মৃত্যুর মিছিলের গতি ত্বরান্বিত করবে। সাময়িক সময়ের জন্য লাগামহীন অসচেতন আনন্দ হবে জীবন ও জীবিকার দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতার উপলক্ষ্য। অন্যদিকে, কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোরবানিদাতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হতে হবে।
আবু ফারুক
বনরুপা পাড়া সদর, বান্দরবান।
একদিকে ঈদুল আজহার উত্সব সমাগত অন্যদিকে করোনার প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলেছে। এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের জীবিকার তাগিদে অনেক কিছু চাইলেও উপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা সবার পক্ষেই সম্ভব। তাই ঈদের মার্কেট, গরুর হাট, ঈদের জামাত, কোরবানিস্থলসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আশা করা যায় আসন্ন ঈদুল আজহার উত্সব সুন্দরভাবে উদ্যাপন করা যাবে। কামনা করি আল্লাহ তায়ালা যেন এ ভাইরাস থেকে অতি দ্রুত আমাদের মুক্তি দেন।
উবাইদুল্লাহ তারানগরী
দুধনই ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ।
করোনা ভাইরাসের আক্রমণ যে বৃদ্ধি পেয়েছে তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে তেমন সচেতন হতে পারিনি। চারদিকে অনিয়ম এবং অনিয়ম। মাত্র কদিন পরেই ঈদুল আজহা। বেশ কিছুদিন যাবত্ হাস্যকরভাবে লকডাউন চলেছে। এখন আবার লকডাউন তুলে নেওয়া হচ্ছে। ঈদের পরেই আবার লকডাউন দেওয়া হচ্ছে। মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়াতে দায়িত্বশীলগণ তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। খুলনা অঞ্চলে এই মহামারি নাকি বেশি। তাহলে এই ঈদে যারা বাড়িতে যাবেন, তারা কি ভাইরাস সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন না ? আমরা প্রতিবছর দেখি ঈদের ১০ দিন পরও গ্রাম থেকে ঢাকায় চরম ভোগান্তি নিয়ে ফিরতে হয়। এখন এই স্বল্প সময়ে কীভাবে গ্রামে গিয়ে আবার ঢাকায় লাখ লাখ মানুষ ফিরবে? সরকারের এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া উচিত ছিল বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
গুলশান, ঢাকা
কিছুদিন পরে উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উত্সব ঈদুল আজহা অথবা কোরবানির ঈদ। বর্তমানে আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর নয়, বরং অনেকটা ভয়াবহ। প্রতিনিয়ত মৃত্যু আর শনাক্ত বেড়েই চলেছে, ভাঙছে রেকর্ড। এমতাবস্থায় ঈদুল আজহা আনন্দসহকারে উদ্যাপন করা আমাদের জন্য কিছুটা আতঙ্ক বয়ে নিয়ে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সবার উচিত সর্বপ্রথম সচেতন থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলা।
ফারজানা বিনতে মুরাদ
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
নাগরিক সচেতনতা ছাড়া করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ঈদের ছুটিতে করোনা মহামারি আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদ উত্সব আনন্দের হলেও নাগরিকগন যদি সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলেন, মাস্ক ব্যবহারে যদি গাফেলতি করেন, তবে সংক্রমণ বাড়বেই। সর্বোপরি জনগণের স্বপ্রণোদিত নিরাপত্তাজনিত ভূমিকা পালনের মাধ্যমেই ঈদ উত্সব হতে পারে আনন্দের।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু
সেনবাগ, নোয়াখালী।
করোনা ভাইরাসের এ চরম সময়ে সরকারের এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়েছে বলে আমি মনে করি না। বতর্মানে আমরা চরম সময় পার করছি। সরকার যতই বলুক না নিয়ম মানার কথা, কেউ সেটা মানবে বলে আমার মনে হয় না। এখন যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি তাহলে এর মাসুল আমাদের দিতেই হবে। আমাদের সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে, ঈদের নামাজের পর কোলাকোলি করা যাবে না, এবার কোনো বাসায় আসা-যাওয়া না করাই ভালো। আর যারা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসবে তারা নিয়মকানুন মেনে চলবে। মনে রাখতে হবে, আমি সচেতন হলে আমার পরিবার সচেতন হবে, আর পরিবার হলে গ্রাম আর গ্রাম হলে শহর—এভাবে পুরো দেশ সচেতন হবে বলে আমি মনে করি
মো. মিনহাজুল ইসলাম
কাউনিয়া, রংপুর।
করোনাকালীন বিধিনিষেধের মধ্যে এসেছে কোরবানির ঈদ। এই ঈদ পালন তো করতে হবে!
সালেহা আফরিন বেবী
শিবগঞ্জ, সিলেট।
সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে ঈদুল আজহার আনন্দ পূর্ণতা পায়। চলমান ক্রান্তিকালে সিংহভাগ মানুষ আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। অন্যদিকে সংক্রমণের ছোবল থেকে সুরক্ষিত থাকার কঠিন যুদ্ধটাও থেমে নেই। এমতাবস্থায় সর্বাবস্থায় স্বাস্থ্যবিধির কঠোর অনুসরণের বিকল্প নেই।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
বান্দরবান সদর, বান্দরবান পাবর্ত্য জেলা।
লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধে সাময়িক সময়ের জন্য শিথিলতা আরোপ করা হলেও ঈদ এবং অন্য সব স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে স্বাস্থ্যবিধির অনুসরণে অবহেলা করার সুযোগ নেই। অন্যথায় শনাক্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান যেমন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বড় হবে তেমনি লম্বা সময়ের জন্য স্থবির হয়ে যাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
মোহাম্মদ ফয়সাল
১৪৬, ডি টি রোড, পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম।
একদিকে কোরবানির ঈদ অন্যদিকে দেশে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঈদকে সামনে রেখে মানুষ গ্রামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে, কেউ কেউ চলেও গেছেন আবার অনেকেই যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কোথাও যাওয়া ঠিক নয়। স্বাস্থ্যবিধিকে সবার আগে মানতে হবে।
মো. মামুন
বংশাল, ঢাকা
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের বিধিনিষেধের সময় গত ১৪ জুলাই শেষ হয়েছে। এই সময়ে সড়কের চিত্র ছিল বেশ স্বাভাবিক। আবার আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একদিকে করোনার ভয়াবহতা অন্যদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উদ্যাপন। এমতাবস্থায় করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কোনে বিকল্প নেই।
আমরা যদি এই অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সচেতন না হই তাহলে কোনোভাবেই করোনার প্রাদুর্ভাবকে ঠেকানো যাবে না।
বজলুল করিম
ধানমন্ডি, ঢাকা
আসন্ন ঈদে করোনার আক্রান্ত প্রভাব বেড়ে যাওয়ার দরুন সবাই আতঙ্কতি। ঈদ উদ্যাপনের জন্য শহরের মানুষ গ্রামের দিকে যাবে। কিন্তু যানবাহনের স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি পালন করতে তাদের ইচ্ছে এবং আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না। সেজন্য ঈদ উদ্যাপনের জন্য যে যেখানে আছে সেখানেই অবস্থান করে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে হবে।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
‘স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণই একমাত্র উপায়’ এমনটি ভাবা দরকার। মানুষ সচেতন এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানলে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে এটা সত্যি। আর না মানলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই আমরা মনে করি, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সবাই অন্তত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহ দেখাব—এটাই আজকের প্রত্যাশা।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
দেশে করোনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই হচ্ছে নতুন রেকর্ড। এদিকে আসন্ন কোরবানির ঈদ। অনেক মানুষ গ্রামে যাচ্ছে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ করতে। তাই আমরা মনে করছি এবার অন্তত আমরা গ্রামে গিয়ে ঈদ না করি।
আল মায়ামী
ফুলবাড়িয়া, সাভার
একদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা অন্যদিকে বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব। এমতাবস্থায় ঈদকে ম্লান মনে হচ্ছে। কোরবানির ঈদ মানেই গরু। আর এই গরুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সিটি করপোরেশন ইজারাদারদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছে। সেসব নির্দেশনা কতটুকু পালন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে অনেকেই গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। এতে সংক্রমণ বাড়বে বই কমবে না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা উত্তম।
মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন
হাইমচর, চরভৈরবী
একদিকে মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যে যখন ক্ষতবিক্ষত তখন মানুষের মনে বিরাজ করছে অনেক ভয়ভীতি। এ সময়ে পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল আজহা কড়া নাড়ছে। তবে সচেতন হই আর অন্যকে সচেতন করব এটাই সবার ব্রত হওয়া উচিত।
বুশরা
আজিমপুর সরকারি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আজিমাপুর, ঢাকা
বৈশ্বিক কোভিড-১৯ চলছে। আমাদের দেশে করোনার মহামারি প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি অনীহা আর অবহেলায় এর সংক্রমণ আরো বেড়েছে। এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহায় মানুষ গ্রামের যাচ্ছেন। অথচ প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। স্যানিটেশন ব্যবহার দূরত্ব বজায় এগুলোর প্রতি অনীহা আছেই। নো মাস্ক, নো সার্ভিস বলা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মানা হচ্ছে না। আসন্ন ঈদুল আজহা সুষ্ঠু, সুদর ও উদ্যাপনের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন রবি
শেওড়া পাড়া, মিরপুর, ঢাকা
একদিকে করোনা ভাইরাস অন্য দিকে আসন্ন ঈদ উত্সব। করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত দেশের মানুষের তেমন উপার্জন ক্ষমতা নেই। দেশের মৃত্যুর সংখ্যা ও সংক্রমণ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এই মহামারির মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। উত্সব পালনে সরকার কঠোর লকডাউন শিথিল করেছেন। বিধিনিষেধের শিথিলের সুযোগ নিয়ে আর ভিড় করব না কোরবানির পশুর হাটে। পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সাবধানতা অবলম্বস করতে হবে। না হলে ঈদ উত্সবের আনন্দ বিষাদের ভয়াবহ রূপে পরিণত হতে পারে।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসন্ন ঈদুল আজহাতে যদি আমরা সুষ্ঠুভাবে ও স্বার্থকভাবে পালন করে যেতে পারি তাহলে এ মহামারি থেকে অনেকটা নিস্তার পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি। এছাড়া সব পর্যায়ে জনগণ প্রতিষেধক টিকা অবশ্যই গ্রহণ করবে। তা না হলে শুধুমাত্র লকডাউন দিয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী
পরিবেশ উন্নয়ন ও মানব কল্যাণ স্বার্থক কমিটি
হাউজিং স্টেট সেক্টর-২, রাজশাহী-৬২০২
দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। অন্যদিকে আমাদের ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম আনন্দ উত্সব ঈদুল আজহা আসন্ন। তাই এ উত্সব সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বার্থকভাবে পালনের জন্য অবশ্যই প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে ও টিকা গ্রহণ করতে হবে।
ফারুক আলম
মালিবাগ, ঢাকা