কমিউটার ও লোকাল ট্রেনের টিকিট পেতে লম্বা লাইন ছিল গতকাল কমলাপুর রেল স্টেশনের বাইরে। বেশি চাপ ছিল কমিউটার ট্রেনগুলোর কাউন্টারে। অনলাইনের পাশাপাশি কমিউটার ট্রেনে কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার সুযোগ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা তাদের স্বস্তির কথা জানালেন।
শিথিল বিধিনিষেধে চলতে শুরু করেছে ট্রেন। তবে গতকাল প্রথম দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনের ভেতরে যাত্রীদের ভিড় ছিল কম। ট্রেনের বেশির ভাগ আসনই ছিল ফাঁকা। অপর দিকে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ছিল মানুষের ঢল। তবে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ছেড়েছে লঞ্চ।
রেল
রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার জানিয়েছেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। দিনভর যেসব ট্রেন ছেড়ে গেছে প্রতিটি ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। সকল নিয়ম ও নির্দেশনা যেন যথাযথভাবে পালন করা হয়, সেদিকে আমরা নজর রাখছি। কোনো যাত্রীকে মাস্ক ছাড়া ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। স্টেশনের ভেতরেও প্রবেশ করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।
উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৩ জুন থেকে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। বিধিনিষেধ শিথিলের পর এখন ৩৮ জোড়া আন্তনগর এবং ১৯ জোড়া লোকাল ট্রেন চলবে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢোকার মুখেই র্যাব-৩ এর অস্থায়ী ছাউনি। টিকিট ছাড়া মূল স্টেশনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে লোকজনকে। আর মাস্ক ছাড়া স্টেশনে প্রবেশের সুযোগ নেই। যাত্রীদের অনেকে জানালেন, প্রতিবার লকডাউন শেষে ট্রেন চালু হলে প্রথম দিন এমন চিত্র থাকে। আস্তে আস্তে সব উধাও হয়ে যায়। যাত্রীদের ভিড়ে বজায় থাকে না স্বাস্থ্যবিধি।
যাত্রী নিয়ন্ত্রণের কৌশল ঠিক
করতে পারিনি :রেলমন্ত্রী
রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, সব স্টেশন আমরা কন্ট্রোল করতে পারিনি। মানুষ হুড় হুড় করে ট্রেনে উঠে যায়, দাঁড়িয়ে থাকে। এটা নিয়ন্ত্রণ করার যে কৌশল, সেটা তো এখনো ঠিক করতে পারিনি। রেলপথ মন্ত্রী বলেন, সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে খুশি হলেও যাত্রীদের নিয়ম না মানা ও ভিড় করা নিয়ে উদ্বেগে আছেন তিনি। ঈদে ট্রেনে প্রস্তুতি দেখতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর রেল স্টেশন ঘুরে দেখেন রেলমন্ত্রী। তিনি সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি বলে জানান সাংবাদিকদের।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের আসন অর্ধেক করায় বাসের ভাড়া বাড়ানো হলেও ট্রেনে বাড়েনি। আমাদের নির্দেশনা অমান্যের ও অনিয়মের যদি প্রমাণ মেলে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলছে লঞ্চ
অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ এমভি ঈগলের মাস্টার হারুন মিয়া জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আমরা লঞ্চে যাত্রী উঠিয়েছি। চার জনের সিটে দুই প্রান্তে দুজনকে বসিয়েছি। এমনিতেই আজকে (গতকাল) যাত্রীর সংখ্যা কম। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। ঈদ উপলক্ষ্যে বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিন চাঁদপুর থেকে অধিকাংশ লঞ্চকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ঘাট ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। গতকাল সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আটটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে ঢাকাগামী যাত্রীর চাপও কমে যেতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক জেলা বন্দর কর্মকর্তা কায়সারুল ইসলাম জানান, এখন ঘাটে বাড়িফেরত মানুষের ভিড় বেশি। ঢাকায় যাওয়ার যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম।
তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। লঞ্চগুলোতে অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে যাত্রীদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বাস টার্মিনালে ছিল মানুষের ঢল
ঈদ সামনে রেখে বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিনেই গতকাল গাবতলীতে ছিল বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল। করোনার সংক্রমণের বিপদ উপেক্ষা করেই নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওনা হওয়া মানুষেরা ভিড় করছেন গাবতলীতে। গাবতলীতে ঈগল পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজার শিমুল বলেন, ভোর থেকেই যাত্রী নিয়ে বাস ছেড়ে গেছে এবং ঢাকায় এসেছে। ঈদের আগ পর্যন্ত আমাদের বেশির ভাগ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
গতকাল রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে আগত যাত্রীদের অনেকেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এনা পরিবহনের কাউন্টারের সামনে রহিম শেখ নামে এক যাত্রী বলেন, আমি যাবো গাইবান্ধার পলাশবাড়ী। কিন্তু কাউন্টারে বলে টিকিট নেই। রংপুরের গাড়ির টিকিট আছে। সেটাই নিলাম। করোনার কারণে সরকার নির্ধারিত বাড়তি ভাড়া নিয়ে টিকেটের দাম হয় ৯০০ টাকার মতো। কিন্তু আমাকে ১৩০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে। দরাদরি করলে টিকিট নেই বলে জানিয়ে দেয় কাউন্টার থেকে। পরে কাউন্টারের ভেতরে থাকা লোক বাইরে এসে ১৩০০ টাকায় টিকিট দেয় আমাকে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, যাত্রী বেশি থাকায় তারা খুশি। বিধিনিষেধ শিথিলের বাকি দিনগুলোতেও যাত্রী ভালোই পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা। শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মো. রাকিব হোসেন বলেন, যাত্রীর অনেক চাপ। আমাদের চট্টগ্রাম ও সিলেট যাওয়ার গাড়িগুলোর সিট ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে।