হাসেম ফুডস মালিকের বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলাটি সিআইডিতে

রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানার মালিক আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, মামলাটি অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শ্রম আদালতে মামলাটি করেন শ্রম পরিদর্শক নেছার উদ্দিন আহম্মেদ।

এর আগে গত ৯ জুলাই ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে আবুল হাসেমসহ আট জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে দায়ের করা মামলায় সেজান জুসের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, তার চার ছেলে হাসিব বিন হাসেম (এমডি), তারেক ইব্রাহিম (পরিচালক), তাওসিফ ইব্রাহিম (পরিচালক), তানজিম ইব্রাহিম (পরিচালক), ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মামুনুর রশীদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) সালাউদ্দিন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহেনশা আজাদ জুম্মনকে আসামি করা হয়। গত বুধবার চার দিনের রিমান্ড শেষে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও তার দুই ছেলেসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। গত বুধবার আসামিদের নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে হাজির করার পর আসামি পক্ষের আইনজীবী সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যানের দুই ছেলে তাওসিফ ইব্রাহিম ও তানজিম ইব্রাহিমের জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে অন্য ছয় আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয়। পরে চেয়ারম্যানসহ ছয় আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

এর আগে গত ৩০ জুন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ অফিসের সহকারী শ্রম পরিদর্শক সৈকত মাহমুদ বাদী হয়ে শ্রম আইনের ৯টি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে দণ্ডবিধির তিনটি ধারায় আরেকটি মামলা করেছিলেন। আর গতকালের মামলার বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-মহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া বলেন, যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের জানাতে হয়, কিন্তু কারখানার মালিক তা করেননি। তাই আমরা একটি মামলা দায়ের করেছি। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ না দিলে আরো মামলার প্রস্তুতি নেব।