প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর ঢাকায় ৪০-৪৫ টাকা

এবার লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় ৪০-৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩-৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ১৫-১৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২-১৪ টাকা ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত সভায় এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয় সংক্রান্ত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি। তিনি বলেন, চামড়ার স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার দর, চাহিদা, সরবরাহ, সার্বিক রপ্তানি পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এতিম খানা, মাদ্রাসা, আনজুমান মফিদুল ইসলামের মতো সংস্থাগুলোই এ চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। গরিবের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। চামড়া ক্রয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে এবং খেলাপিঋণের ৩ শতাংশ পরিশোধ করে ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে। দেশে লবণের সরবরাহ ও মূল্যও স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার কোরবানির চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া রপ্তানি বেড়েছে, আরো বাড়বে। সরকার এরই মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ বর্গফুট ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি প্রদান করেছে। আরো ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি প্রদান করা হবে। সাভারে স্থাপিত নতুন চামড়া শিল্প নগরী পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। চামড়ার গুণগত মান নিশ্চিত করতে যথাযথভাবে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়।

সভায় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বক্তব্য রাখেন। ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, ধর্মসচিব ড. নূরুল ইসলাম, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ হারুন পাশা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ এফ এম নাছের, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ, লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যান্যুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফিনিশ লেদার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান।