নিরব ঘাতক ওয়াই-ফাই

প্রযুক্তির বিরামহীন অগ্রযাত্রায় ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সে যাত্রায় ইন্টারনেটের ব্যবহারকে আরো সমৃদ্ধ এবং সহজতর করে তুলেছে ওয়াই-ফাই। স্বল্প ব্যয়ে দিন-রাত ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ করে দিয়েছে ওয়াই-ফাই। নতুন এই প্রযুক্তির উপকারিতা থাকলেও অপকারিতার পরিমাণও কোনো অংশে কম নয়। ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য এ প্রযুক্তিকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ও বলা হয়ে থাকে। WLAN সিগন্যালের মাধ্যমে যে ল্যুপ সৃষ্টি হয়, তা মানব দেহে মনোযোগের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা, মাঝেমধ্যেই মাথায় যন্ত্রণা, কানে ব্যথা ও ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াই-ফাই রাউটারের নির্গত তরঙ্গ মানুষ ও গাছপালার বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে থাকে। জার্মানির ফেডেরাল অফিস ফর রেডিয়েশন প্রোটেকশন জানিয়েছে, সারাক্ষণ ওয়াই-ফাই সিগন্যালের মধ্যে অবস্থান করলে মস্তিষ্কের কোষে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, এমনকি ডিএনএ গঠন প্রকৃতিও বদলে যেতে পারে! দ্য হেলথ এডুকেশনে প্রকাশিত ব্রিটিশ স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে যে, কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করলে ওয়াই-ফাইয়ের কুপ্রভাব থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। যেমন :বেড রুম ও রান্নাঘরে রাউটার স্থাপন না করা, অপ্রয়োজনে সব সময় রাউটার চালু না রাখা, ব্যবহার শেষ হলে রাউটার বন্ধ করে রাখা, ঘুমানোর সময় অবশ্যই ওয়াই-ফাই রাউটার বন্ধ রাখা, এছাড়াও সম্ভব হলে তারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা। প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে তারবিহীন ওয়াই-ফাই পুরোপুরি বর্জনের সুযোগ না থাকলে এসব পদক্ষেপ মেনে চললে ভয়াবহ ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।

আবু মো. ফজলে রোহান

চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা