লকডাউনে ক্ষতির শঙ্কায় ঝালকাঠির পেয়ারাচাষিরা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

শত শত নৌকায় দূর-দূরান্তের বাগান থেকে সরাসরি ভীমরুলী বাজারে পেয়ারা এনে বিক্রি করা হয়। কদিন পরেই এই বাজারে শুরু হবে পেয়ারা কেনাবেচা। ভাসমান নৌকায় বসে বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করে পেয়ারা ওঠানো হবে পাড়ে। এছাড়াও পাইকাররা তাদের কেনা বাগানের পেয়ারা নৌকায় এনে এখান থেকে সড়কপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠান। কিন্তু চলমান লকডাউনের কারণে পেয়ারাচাষিরা এবার ক্ষতির শঙ্কা করছেন।

করোনার কারণে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনে চলতি বছর ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজার নাও জমতে পারে। তাই বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন চাষি ও পাইকাররা। প্রতি বছরের মতো এবারও আগে-ভাগে বাগান কিনে রাখায় লোকসানের শঙ্কা করছেন পাইকাররা। আর যেসব চাষি বাগান বিক্রি করেননি তারা বলছেন, এবার পেয়ারা বাগানেই পচে থাকবে বেশি। ঝালকাঠির বাউকাঠি, ভিমরুলী, শতদশকাঠি, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাপুড়াকাঠি, জগদীশপুর গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বাউকাঠির চাষি হরিপদ জানান, প্রতি বছর এমন সময় পাইকাররা গাছ থেকে পেয়ারা পাড়ার প্রস্তুতি নিত। এ বছর তাদের কোনো তত্পরতা দেখছি না। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। পাইকাররা বাগানের পেয়ারা না নিলে অর্ধেক পরিমাণ টাকা ফেরত দিতে হবে। কীর্তিপাশার পেয়ারাচাষি অমল কৃষ্ণ বলেন, সামনে পেয়ারা বিক্রির মৌসুম। কিন্তু এবার সড়কপথ বন্ধ থাকায় পাইকাররা দুশ্চিন্তায় আছেন। তবে আমরা যারা বাগান বিক্রি করিনি একটু বাড়তি দামের আশায় তারা আরো বেশি চিন্তায় আছি। কারণ পাইকাররা না কিনলে কাদের কাছে বিক্রি করব। প্রতি বছর এই ভাসমান বাজারে কোটি কোটি টাকার কেনাবেচা হয়। হিমানন্দকাঠি এলাকার পাইকার সোবাহান মৃধা জানান, এবার করোনার কারণে বাগান কিনে বেকায়দায় পড়েছি। কারণ কিছুদিন পরেই পেয়ারা বিক্রি শুরু হবে। সড়কপথ বন্ধ থাকায় এসব পেয়ারা কীভাবে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠাব তাই ভাবছি। এবার লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হবে পাইকারদের।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিফাত সিকদার জানান, আজ বুধবার রাত ১২টার পর থেকে লকডাউন শিথিল হচ্ছে। পরবর্তী লকডাউনে পেয়ারাচাষি ও পাইকারদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি-না, সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা চলছে। এছাড়া করোনার শুরু থেকেই চাষিদের জন্য প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু আছে। কেউ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঋণ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।