মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুরে শহরে মোড়ে মোড়ে গিজগিজ করছে মানুষ। সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল হতেই জীবনযাত্রা এবং সার্বিক পরিবেশ এখন বেশ স্বাভাবিক। শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, শহীদ ডা. শামসুল হক সড়ক, ছোট ঘুন্টি এলাকা, বড় ঘুন্টি এলাকাসহ সৈয়দপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মানুষের ভিড়। বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে নেই সচেতনতা। সৈয়দপুরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রিকশা, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক সব কিছুই চলাচল করছে। রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিন জন করে নেওয়া হচ্ছে। আশপাশের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও খোলা দেখা গেছে। প্রতিটি দোকানে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সৈয়দপুরে করোনা সংক্রমণের এখন ঊর্ধ্বগতি। সংক্রমণ ঠেকাতে টানা লকডাউনের কথা ভাবা হলেও এখন তা শিথিল করা হয়েছে। শহরের টার্মিনাল, পাঁচমাথা মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দেখা গেছে সব ধরনের দোকানপাট খোলা। সব ধরনের পরিবহনও চলাচল করছে। বাস টার্মিনাল এলাকায় বাসে প্রায় সব আসনে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি দাঁড়িয়েও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো কোনো পরিবহনকে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই। গাড়িতে উঠানোর সময়ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে না।
শারীরিক দূরত্ব নেই কিন্তু আছে ঝুঁকি তবুও ভিড়ের মধ্যে কেন হাঁটছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক কর্মকর্তা সিদ্দিকুল আলম বলেন, ‘এভাবেই এখন থেকে চলতে হবে। অফিস তো করতে হবে। মাস্ক আছে, আগে তো গ্লাভস আর পিপিই পরতাম অনেক সময়। এখন তাও পরি না। এই করোনা নিয়েই চলতে হবে।’
সাব্বির আলম নামের এক কাপড়ের দোকানি বলেন, ‘অনেক দিন পর দোকান খুলেছি। দোকানের আলমিরাসহ কাপড়ের তাকের ওপর ধুলাবালু বসে গেছে। এগুলো পরিষ্কার করছি। এখানা গ্রাহক কম। ঈদের কেনাকাটা করতে হয়তো আসবে।’ শহরের নতুন বাবুপাড়ার বাসিন্দা রিক্তা বানু বলেন, ‘লকডাউনের কারণে এতদিন কেনাকাটা করতে পারিনি। এখন সবকিছু স্বাভাবিক হওয়াতে বের হয়েছি। বাচ্চাদের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে হবে।’ সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার জানান, ‘সৈয়দপুরে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। গড়ে ২০ জন করে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিদিন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ১৫ জুলাই পর্যন্ত সৈয়দপুরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪৪ জন। মারা গেছেন ১৭ জন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রমিজ আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে আমরা কাজ করছি। স্বেচ্ছাসেবীদের সাহায্যে মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।’