রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের পশুর হাটগুলোতে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পশু বেচা-কেনা। প্রথম দিনে হাটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বিক্রি ছিল কম। বেশির ভাগ ক্রেতাই দর কষাকষি করেছেন। কেউ কেউে পরখ করেছেন বাজার পরিস্থিতি। খামারিরা বলছেন, প্রথম দিনে বেশির ভাগ ক্রেতাই পশু দেখেছেন, কেনেছেন কম। তাই তারাও দাম হেঁকেছেন বেশি করে। গতকাল বিভিন্ন হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
অন্যদিকে হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা ছিল উপেক্ষিত। বারবার মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে প্রবেশ ও কেনাকাটা করার কথা বলা হলেও বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। এ ছাড়া সামাজিক দূরত্বের ছিল না বালাই। হাটগুলোর প্রবেশপথে পর্যাপ্ত সাবানসহ বেসিন স্থাপনের নির্দেশনা থাকলেও তা দেখা যায়নি। একমুখী চলাচলের শর্তও মানছেন না কেউ। নেই তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। এ অবস্থায় কোরবানির পশুর হাট থেকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাটে আসা কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীকে মাস্কের কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা উত্তর দেন, ‘কতক্ষণ মাস্ক পরে থাকা যায়?’
গতকাল প্রথম দিন হলেও এসব হাটে আগেভাগেই পশু বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। গতকাল যারা গরু কিনেছেন তাদের ভাষ্য, চড়া দামে বিক্রির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা না থাকলেও বিক্রেতারা দাম ছাড়ছেন না। তারাও বাজার বোঝার জন্য বেশি দাম হাঁকছেন। হাটে বেশকিছু ব্যাপারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীর পশুর বাজার চড়া দাম নিয়ে শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় সব হাটে পশু আমদানির সংখ্যা গত বছরগুলোর চেয়ে অনেক কম। যদিও হাটের ইজারাদাররা বলছেন, পশুর সংখ্যা কমেনি বরং করোনা পরিস্থিতির তুলনায় হাটে পর্যাপ্ত পশু এসেছে।
মেরাদিয়া হাটের ২ নম্বর হাসিল ঘরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাত হোসেন বলেন, ‘এ হাটে ৫ হাজারের বেশি গরু ও আড়াই থেকে ৩ হাজার ছাগল তোলা হয়েছে, যা গত বছরের থেকে বেশি। গত বছর হাটে পশু কম ছিল।’
প্রথম দিনের বিক্রি নিয়ে তিনি বলেন, দুপুর পর্যন্ত এ ঘরে ২২টি গরু হাসিল হয়েছে। সব মিলে এ হাটে হাসিল ঘর আটটি। সওগাত হোসেন বলেন, ‘রাজধানীর বাড়িগুলোতে সবার পশু রাখার জায়গা নেই। এ জন্য ঈদের দুদিন আগে হাট জমে। এদিকে কিছু ব্যাপারী শঙ্কা জানিয়ে বলেন, করোনার কারণে ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দাম নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লোকসানের শঙ্কা রয়েছে তাদের। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যাপারী মোকছেদ মিয়া বলেন, ‘প্রথম দিন ক্রেতাই নেই। ২৬টি গরু এনেছি। সকাল থেকে চার জন দাম বলেছেন চারটি গরুর। তাও যে দাম চাই তার অর্ধেক বলে। বিক্রি তো দূরের কথা।’ এদিকে ক্রেতারা যারা হাটে গরু কিনেছেন, তারাও বেশি দামের কথা বলছেন। জামাল শেখ নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বেচাকেনা পুরোপুরি শুরু হয়নি। কিন্তু এখন যে দাম চাওয়া হচ্ছে, তা গত বছরের তুলনায় বেশি। ’
এদিকে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা বাজার যাচাই করতে এসেছেন। ফরিদ উদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাসায় গরু রাখার জায়গা নেই। তাই শেষ দিন কিনব। এখন একটু বাজার দেখছি। শেষে এর চেয়ে দাম কমবে বলে মনে হচ্ছে।’
যশোর থেকে ১০টি গরু এনেছেন এক ব্যাপারী। তার প্রতিটি গরুর দাম ২ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। যেগুলো তিনি গ্রামের বাজার থেকে কিনে এনেছেন। বাজার কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার দাম চড়া হবে। গ্রামগঞ্জে সস্তায় গরু কেনা যায়নি। একটি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি করেছি। দাম ভালো পেয়েছি। এমন বাজার থাকলে ব্যাপারীদের লাভ হবে।’
উত্তর সিটির কাওলার শিয়াল ডাঙ্গা হাটে শিহাব উদ্দিন এনেছেন ১০টি গরু। তিনি জানান, ‘এখনো কোনো গরু বিক্রি করতে পারিনি। তবে ঈদের দুয়েকদিন আগে ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’